বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

থাইল্যান্ড, ক্যাম্বোডিয়া: প্রিয়া বিহার মন্দির নিয়ে বিতর্ক (প্রথম ভাগ)

থাইল্যান্ড আর ক্যাম্বোডিয়া দুই দেশই প্রিয়া বিহার মন্দির আর এর চারদিকের চার বর্গ কিলোমিটার ভূমিকে তাদের বলে দাবী করছে। গত বুধবারে (১৫ই অক্টোবর) এই সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষে দুইজন ক্যাম্বোডিয়ান সেনা নিহত আর সাতজন থাই সেনা আহত হয়। দেশ দুটো একে অপরকে লড়াই আরম্ভের জন্য দায়ী করছে।

উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি যেহেতু দুই দিকেই সেনা মোতায়েন বাড়ছে। কিন্তু ভালো কিছু উন্নতিও হয়েছে। দুই পক্ষ এখন আলোচনা করছে আর প্রাথমিকভাবে তারা সম্মত হয়েছে এলাকায় যৌথ পাহারা বসাবার।

দ্যা মিরর পত্রিকায় গত বুধবারের লড়াই নিয়ে লেখা হয়েছে। গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক থ্যারাম এই বিতর্কের শুরু ও পেছনের ঘটনা নিয়ে লিখেছেন। মিল্টন অসবোর্নের একটা লেখা আপলোড করেছে এন্ডি ব্রাউওয়ার। দুই দেশের ভূমি নিয়ে ঐতিহাসিক দাবির ব্যাপারে এই লেখক আলোচনা করেছেন। লেখক থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক গোলযোগের কথা উল্লেখ করেছেন সম্ভাব্য কারন হিসাবে যার ফলে কয়েক মাস আগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। লেখক আরো বলেছেন:

“এটা কিছু থাই জনগোষ্ঠির প্রস্তুতির কথা আবার ইঙ্গিত করে, রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষ হোক, এমন পরিস্থিতিতে তারা ক্যাম্বোডিয়ার দাবীকে পাত্তা না দিয়ে উপেক্ষা করে।”

সাদচু বিশ্বাস করে যে থাইল্যান্ড ‘বিপদজনক একটা খেলা‘ খেলছে:

“থাইল্যান্ড কি করছে? তারা কি তাদের মিলিটারী ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করছে? থাইল্যান্ড ওই পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে যখন দেশ দুই ভাগ হয়ে যাবে উগ্র জাতীয়তাবাদের কারনে। ভেতরে ক্ষত নিয়ে আর চারপাশের দেশের সাথে খারাপ পড়শীর মতো ব্যবহার করে থাইল্যান্ড একটা বিপদজনক খেলায় মেতেছে।”

লিথিং থাইল্যান্ড আর ক্যাম্বোডিয়া উভয়কে স্মরণ করিয়ে দিতে চেচ্ছে যে ‘বাকী পৃথিবী দেখছে‘:

“অন্য দেশের মানুষের উপর জোর খাটানো এটা দেখাতে যে আপনি বড়, দেশপ্রেম দেখানোর সব থেকে বোকার মতো উপায়। আর সংঘর্ষ বলতে আমি শুধু যুদ্ধের কথা বলছি না আমি যে কোন ধরনের সংঘর্ষের কথা বলছি, মৌখিকসহ। মানুষ যখন লড়ে, তারা ভুলে যায় যে বাকি পৃথিবী দেখছে।”

সামওয়ান-রিমায়ের্ড জোর দিয়ে বলছে যে সংঘর্ষের ফলে কিছুই ঠিক হবে না:

“আমি চাই না সেনা আর মানুষ মারা যাক, কারন এটা অন্য লোকের খেলা যে তারা নিরাপরাধ মানুষের জীবন নিয়ে খেলে। এটা দু:খজনক ঐতিহাসিক ঘটনা। সংঘর্ষ সামনের বছর পর্যন্ত চললেও সীমান্তের কোন ব্যাপারের সমাধান এতে হবে না। মানুষ মারা যাবে, সেনা মারা যাবে, বাচ্চারা তাদের বাবাকে হারাবে, স্ত্রীরা তাদের স্বামীকে হারাবে, ব্যবসা পড়ে যাবে…”

ক্যাম্বোডিয়া কলিং লক্ষ্য করেছে যে সীমান্তের সংঘর্ষ মনে করিয়ে দিয়েছে খেমারের সাথে ১৯৭৫ এর সংঘর্ষের কথা:

“আমার খেমার বাড়িওয়ালা আমাকে বলেছে যে কিছু খেমার সিয়েম রিপ ছেড়ে চলে গেছে দক্ষিনে রাজধানী নম পেন এ আর লোকে তাকে জিজ্ঞাসা করেছে, “তুমি এখনো কেন সিয়েম রিপে আছো, কেন তুমি পালাচ্ছো না?”

“অবশ্যই যুদ্ধের কথা বেশ কিছু খেমারের মনে এখনো জাগ্রত আছে আর দেশের কোথাও লড়াই হলে তা উস্কিয়ে যায়। তারা নিশ্চয় ১৯৭৫ এর দিনগুলির কথা ভাবে যখন খেমার রুজ গ্রামের দিকের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিল আর পালানোর পরিবর্তে, মানুষ নম পেনে তাদের বাড়িতে ছিল, ভয়ঙ্কর পরিণতির জন্যে।”

দ্যা মিরর জোর দিয়ে বলেছে যে শান্তি একমাত্র উপায় হতে পারে:

“বর্তমান বিতর্কিত ভূমি নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে জোর খাটিয়ে- আলোচনার সময়সূচী (যা এরই মধ্যে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক হয়েছে) দ্বিপক্ষীয় বিষয় শান্তিপুর্ণভাবে সমাধানের আন্তর্জাতিক নিয়মেরও পরিপন্থী হবে, যা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্ররা নিজেদের মধ্যে অঙ্গীকার করেছে। আর আলোচনা যখন সম্ভব এমন পরিস্থিতিতে জোর খাটানো ক্যাম্বোডিয়ার ইতিহাসের অনেক দিনের খারাপ অভিজ্ঞতাকে অবজ্ঞা করারই নামান্তর। যুদ্ধ আর শান্তির মধ্যে যদি বেছে নিতে হয়, তাহলে পছন্দ শুধুমাত্র শান্তি হতে পারে।”

ব্লগাররা ক্যাম্বোডিয়ার সেনাদের মৃত্যুতে শোক করছেপ্রিয়াচানের ও মন খারাপ:

“আমার গভীর দু:খ সেই সব ক্যাম্বোডিয়ার সেনাদের প্রতি যারা ক্যাম্বোডিয়ার স্বাধীনতা থাই আগ্রাসন আর হুমকি থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয়েছে। শান্তিতে যেন থাকতে পারেন, আর আপনাদেরকে সব সময় স্মরণ করা হবে। ইশ্বর যেন আমাদের সাহসী সেনাদের উপর করুণা বর্ষণ করেন, আর তারা যেন লোভী আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে জেতে। আমি সিয়াম জাতিকে ধীক্কার দেই তাদের লজ্জাহীন আগ্রাসন আমার প্রিয় দেশের প্রতি করার জন্য।”

মাই খেমেরিকান কর্নার সোভাথা এ্যানের একটা লেখা আপলোড করেছে। এই লেখক মনে করে যে প্রিয়া বিহারের এলাকা থাইদের জন্য গৌরবের বদলে লজ্জার স্থান। সাক্রাভা টুনস আমাদেরকে এই বিতর্কের উপর রাজনৈতিক কার্টুনের জোগান দিয়েছে।

( এই লেখার দ্বিতীয় ভাগ থাই ব্লগারদের মতামত নিয়ে হবে)।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .