বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নতুন যুগে প্রবেশ

এই মাসের প্রথম দিকে আমেরিকা ভারতের সাথে পারমাণবিক ব্যবসার উপর তাদের ৩০ বছরের মুলতবী আদেশ উঠিয়ে নেয়। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বুশ একটা বিল সই করেছেন যার ফলে আমেরিকা ভারতের বেসরকারী পারমাণবিক শক্তি প্রকল্পে সাহায্য করবে আর এর বদলে ভারত আন্তর্জাতিক এটমিক এনার্জি এসোসিয়েশনকে তার পারমাণবিক কেন্দ্র পরীক্ষা করতে দেবে।

রাইডিং দ্যা এলিফ্যান্ট মনে করে যে এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা- ভারত সম্পর্ক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে। এটা কি সত্যি? অবশ্য মূলধারার মিডিয়ার অনেকেই তাই মনে করছে আর ভারত ও আমেরিকায় এই চুক্তির ব্যাপারে অনেক উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু এটা বিভ্রান্তিকর যে ভারতীয় ব্লগারদের মধ্যে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপারে এতো কম বিতর্ক হয়েছে।

বৈদেশিক সম্পর্ক কাউন্সিলের জয়শ্রী বাজোরিয়া আমেরিকা-ভারতের পারমাণবিক চুক্তির ভালো ও খারাপ দিক তুলে ধরেছেন (এটাকে ১২৩ চুক্তিও বলা হচ্ছে), যেখানে উনি বলছেন যে আমেরিকা- ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা নয়া দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।

দেশীক্রিটিক্স এর দিপ্তি এ লিখেছেন, ”এই (পারমাণবিক চুক্তি) সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সব থেকে উত্তপ্ত আর বিতর্কিত চুক্তির মধ্যে পড়েছে।” সম্পৃক্ত দুই দেশ এই চুক্তি করতে যে বিরোধীতার মুখোমুখি হয়েছে তা তুলে ধরে তিনি বলেছেন:

“অভ্যন্তরীণভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেও বিরোধীতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, প্রশাসনে, আর বাইরে কমিউনিটিতে। মানুষ এনপিটিতে (পারমাণবিক বিস্তার নিয়ন্ত্রন চুক্তি) কোন ছাড় দিতে চাচ্ছিল না; চিন্তা করা হচ্ছিল যে এর ফলে ভারতকে ক্ষমতা দেয়া হবে তাদের ইউরেনিয়াম সম্পদ ব্যবহার করে মিলিটারি অস্ত্র কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার; আর এটা ইরান আর পাকিস্তানকে ভুল ইঙ্গিত দেবে।”

চুক্তি সম্পর্কে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ এখানে তুলে ধরা হলো। সিদ্ধার্থ ভরদরাজন তার ব্লগে লিখেছেন যে আমেরিকার উভয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বারাক ওবামা আর জন ম্যাকেন এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন।

শশী থারুর, যিনি আগে জাতিসংঘের সাথে ছিলেন, তার “কেন ভারত বুশকে ভালোবাসে” আর্টিকেলে এই কথা বলতে চেয়েছেন:

“বাস্তবতা হলো ভারত-আমেরিকার (বর্তমান) সম্পর্ক বিগত আট বছরে (হয়তো একমাত্র) বুশ প্রশাসনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রাপ্তি। পৃথিবী ঘুরে দেখেন, আপনি দেখবেন শুধুমাত্র বৈদেশিক নীতির ভেঙ্গে পড়া: ইরাকের সাথে পাঁচ বছরের যুদ্ধ, এর সাথে আছে আবু ঘারিব, অত্যাচার আর আত্মসমর্পন, কখনো শেষ না হওয়া “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশব্যাপী যুদ্ধ”, গুয়ান্তানামো বুশদের আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে অবহেলার একটা নিদর্শন স্বরুপ, ইউরোপ ব্যাপি খুবই নিম্নমানের মতামত, একটা ফুটন্ত মধ্য প্রাচ্য, জ্বলে থাকা রাশিয়া, আর ইরান থেকে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত শত্রুভাবাপন্ন সব ক্ষমতাধর। যদি আলোর কোন রেখা থাকে- একটা জায়গা যেখানে বুশ প্রশাসন গতানুগতিকের চেয়ে ভালো সম্পর্ক রেখে যাচ্ছে- তা শুধুমাত্র ভারত হতে পারে।”

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .