বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিশর: আমরা সবাই লায়লা

আমরা সবাই লায়লা মিশরীয় নারী ব্লগাররা এক কথায় বলবে, আমরা সবাই লায়লা। প্রশ্ন হচ্ছে লায়লা কে আর কেন মিশরীয় নারীরা নিজেদেরকে তার সাথে তুলনা করে? পড়ে দেখুন জানার জন্য যে কি করে মিশরীয় ব্লগাররা কাজ করছে লিঙ্গের বাধা ভাঙ্গার জন্য আর নারীদের কথা শোনাবার জন্য।

২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই গল্পের শুরু হয় যখন একদল ব্লগার সিদ্ধান্ত নেয় যে সময় হয়েছে তাদের কথা বলার। তারা প্রকাশ করা শুরু করে তাদের নিজেদের গল্প আর অভিজ্ঞতা, আর তার সাথে অন্যান্য মহিলাদের কথাও যাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

পদক্ষেপ এভাবে নেয়া হয়:

بدأت فكرة “كلنا ليلى” بليلى/ واحدة منا تشكو و تبوح ل/ليلى أخرى ليزيد العدد لثلاثة فخمسة فأكثر من خمسين فتاة و سيدة، لنكتشف أنه على اختلاف خلفياتنا و أفكارنا و أولوياتنا كلنا في النهاية ليلى.
و ليلى هي بطلة رواية بعنوان ” الباب المفتوح” للروائية لطيفة الزيات وقد تحولت تلك الرواية إلى عمل سينمائي يحمل نفس الاسم – قامت ببطولته فاتن حمامة . ليلى هي نموذج للفتاة المصرية التي تتعرض لمواقف حياتية مختلفة في مجتمع يعلى من شأن الرجل ويقلل من شأن المرأة، ولا يهتم لأحلامها أو أفكارها أو ما تريد أن تصنع في حياتها.
ومع ذلك فقد استطاعت ليلى التي تعرضت منذ طفولتها لأشكال مختلفة من التمييز أن تحتفظ بفكرتها الأصيلة عن نفسها وتظل مؤمنة بدورها كإمراة لا تقل أهمية بأي حال من الأحوال عن الرجل سواء في البيت أو في العمل أو في الدراسة أو في العمل العام.

“ আমরা সবাই লায়লা” এই ধারনা শুরু হয় লায়লা নামক এক মহিলা দিয়ে যে তার কথা জানাচ্ছিল লায়লা নামক আর একজন মহিলাকে। অচিরেই দুই লায়লা তিনজন হয়েছে, তারপর পাঁচ আর তারপরে ৫০ জনের বেশী, যারা বুঝতে পেরেছে যে তাদের অবস্থা, ধারনা আর অগ্রাধিকারের পার্থক্য সত্ত্বেও, দিন শেষে তারা সবাই লায়লা। লেখক লতিফা আল জায়াত এর লেখা উপন্যাস ‘দ্যা ওপেন ডোর’ (উন্মুক্ত দরজা) এর নায়িকা লায়লা। এই উপন্যাস থেকে পরে চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে যাতে লায়লার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাতেন হামামা। লায়লা বর্তমানের মিশরীয় নারী, যে সমাজে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, যেখানে পুরুষদেরকে মাথায় তুলে ধরে মেয়েদেরকে অবজ্ঞা করা হয়। তার স্বপ্ন, ধ্যান ধারনা আর সে জীবনে কি করতে চেয়েছে কেউ তার পরোয়া করেনা। এসব সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকে অবহেলিত লায়লা নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রাখতে পেরেছে। আর নারী হিসাবে তার ভুমিকা পুরুষের সমান গুরুত্বপূর্ণ – তা বাড়িতে, কাজের ক্ষেত্রে, স্কুলে বা বৃহত্তর সমাজে যে কোন যায়গায়ই হোক।

كانت ليلى هي اختيارنا لأنها قصة مصرية، تحمل في طياتها الكثير من الروح التي تعيش بداخلنا وتتعرض لنفس الضغوطات التي تولدت في مجتمعنا المصري بكل تقاليده وأرائه عن المرأة عبر الأزمان، و لا ينفي هذا مشاركة مدونات من بلاد عربية معنا في هذا اليوم فالثقافة التي تظلم ليلى موجودة هناك أيضا.

আমরা লায়লাকে বেছে নিয়েছি কারন এটা মিশরীয় গল্প, যার মধ্য দিয়ে আমরা কি সমস্যার মধ্যে দিন অতিবাহিত করি তা অনেকটা প্রতিফলিত হয়েছে। আমাদের মিশরীয় সমাজে নারীদের উপর যে চাপ দানা বেঁধে ওঠে, আর ইতিহাস জুড়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গী আর সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে। এর মানে এই না যে অন্যান্য আরব দেশের ব্লগাররা এই উদ্যোগে অংশগ্রহন করতে পারবে না, যেহেতু লায়লাকে নিগৃহীত করার সংস্কৃতি তাদের দেশেও আছে।

هدفنا من هذا اليوم إعطاء فرصة لكل ليلى لتتحدث بصوت مسموع و تسمع من أخريات مختلفات عنها و تعلم أنها ليست بمفردها في رفض ومواجهة الظلم الواقع عليها. هدفنا أن يكون لنا صوت يعبر عنا بعدما سأمنا من محاولات التحدث باسمنا. و هدفنا الأكبر هو أن نشارككم جزء مهم و جوهري من عوالمنا المختلفة، جزء مخبأ بعناية في أحايين كثيرة بداخل أختك أو زوجتك أو زميلتك في العمل…جزء قد تشارك في تكوينه بوعي أو بدون وعي أحيانا.

আমাদের আজকের চেষ্টা হচ্ছে লায়লাকে কথা বলার সুযোগ করে দেয়া আর অন্যরা তার সম্পর্কে কি বলে তা শোনা। আর তাকে জানানো যে সে যে অবিচারের সম্মুখীন হচ্ছে আর মুখ বুজে সহ্য করছে তাতে সে একা না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের নিজের কন্ঠে আমাদেরকে তাদের কষ্টের কথা বলুক যেহেতু আমরা বিরক্ত অন্যের মাধ্যমে তাদের কথা শুনতে। আমাদের বৃহত্তর লক্ষ্য হচ্ছে আপনাদের সাথে আমাদের অস্তিত্বের একটা বড় দিক ভাগ করে নেয়া, একটা দিক যা আপনার বোন, স্ত্রী আর কাজের ক্ষেত্রে কর্মীদের মধ্যে লুকানো আছে… আর একটা দিক যাতে আপনি সচেতন বা অবচেতনে অংশগ্রহন করছেন।

এরপর থেকে এই প্রচারাভিযান প্রতি বছর সফল হয়েছে- যেখানে নারী ব্লগাররা তাদের মনে কথা বলছে আর তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরছে, আর আশ্চর্যজনকভাবে পুরুষদের কাছ থেকেও তারা সমর্থন পাচ্ছে।

পরের বছর আমরা সবাই লায়লা লিখেছে:

مرت سنة على يوم “كلنا ليلى” الأول… وكانت فكرته ببساطة تجميع أكبر عدد من المدونات –بكسر الواو- للكتابة عما يواجههن من مشاكل من وجهة نظرهن، كمحاولة لطرح المشاكل على وسيط مفتوح فيه قدر معقول من الحرية و الوعي. وكان ذلك بهدف البوح و التشارك والخروج من خندق الإحساس بالوحدة في مواجهة هذه المشاكل. كذلك كان الهدف الاستفادة من موقعنا ومصداقيتنا على ساحة التدوين في طرح ما نراه مشاكل ليراها الجنس الآخر من نفس الزاوية التي نراها بها، في محاولة أخرى ليفهم الطرف الآخر طبيعة ما نشعر به ويحاول معنا تغيير ما نراه مجحفا ولو على نطاق ضيق يشمل فقط نفسه وبيته..

আমরা সাবাই লায়লা দিবসের একবছর পার হয়েছে… ইচ্ছা ছিল অনেক সংখ্যক নারী ব্লগার দিয়ে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরা, উন্মুক্ত মাধ্যমে তাদের এই ব্যাপারগুলো আলোচনা করা, যেখানে এখনো কিছু মাত্রায় স্বাধীনতা আর সচেতনতা আছে। লক্ষ্য ছিল খুলে বলা আর ভাগ করে নেয়া আর একই সাথে এই বোধ অনুভব করা যে এইসব সমস্যা মোকাবেলায় আমরা একা নই। আর একটা লক্ষ্য ছিল ব্লগে আমাদের সমস্যার কথা বলার যথার্থতা তুলে ধরে অন্য লিঙ্গের মানুষকে আমাদের দৃষ্টিকোন থেকে এইগুলো দেখানো। এটা একটা সুযোগ ছিল আমাদের একে অপরকে বোঝার, আর আমরা কেমন বোধ করি আর আমাদের প্রতি অসমতা পরিবর্তন করার। কম করে হলেও, সে আর তার পরিবার দিয়েই শুরু হোক।

ফলাফল হলো ওই দিনে বিভিন্ন ব্লগাররা এই বিষয়ে বেশ কিছু লেখা লিখেছেন যার মধ্যে পুরুষরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে।

আমরা সবাই লায়লা ব্যাখ্যা করেছে:

ومع نجاح فكرة اليوم العام الماضي، لام علينا البعض عدة نقاط، من أهمها إهمال مشاركة الرجل، وعدم تحديد الموضوعات. وعلى هذا حاولنا قدر المستطاع تلافى هذه الأخطاء. واخترنا هذه المرة تجديد طريقة العرض بطرح مجموعة من الأسئلة –شارك في اختيارها العديد من الأصدقاء- تمس وضع المرأة والفتاة المصرية بشكل خاص والإنسان المصري بشكل عام، بهدف أن تخلق الإجابة عليها حوار يقودنا نحو فهم أفضل لأنفسنا ولمن حولنا.

(গতবছর) দিনটির সফলতা সত্তেও, কয়েক বিষয়ে আমাদের সমালোচনা করা হয়েছে, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো পুরুষদেরকে অবহেলা করার, আর বিষয়বস্তুকে পরিষ্কার করে না বলা। এই বছর আমরা এক্চেষ্টা করব এইসব ভুল শুধরাতে। এই বছর আমরা ঠিক করেছি দিনটাকে অন্য ভাবে পালন করতে। মিশরীয় মেয়ে আর নারীদের অবস্থান নিয়ে, আর সাধারনভাবে মিশরীয়দেরকে নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করে, যা সাবধানে কিছু বন্ধু বেছে দিয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে যে সারা আসবে তা থেকে একটা আলোচনা করা যাতে আমরা নিজেদের আর আমাদের চারপাশের মানুষকে ভালোভাবে বুঝতে পারি।

এই বছরের আমরা সবাই লায়লা দিবস মিশরীয় ব্লগে পালিত হবে অক্টোবর ১৯ তারিখে। আমাদের সাথে থাকবেন ওই দিনের খবর শোনার জন্য।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .