বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাশিয়া: বিনা টিকেটের যাত্রী

মস্কোতে বাসে/ট্রলিবাস/ ট্রামে চড়ে কেউ কোথাও যেতে চাইলে ড্রাইভারের কাছ থেকে টিকেট কিনতে পারে। এর জন্য খরচ পড়বে খুব বেশী হলে ২৫ রুবল বা প্রায় ১ ডলার। আবার বিশেষ কিয়স্ক (রাস্তার পাশের দোকান) থেকে কোন টিকেট কিনলে তার জন্য রয়েছে আলাদা ছাড়। কিন্তু কিছু লোক ঠগবাজী করে বিনে টিকেটে গাড়ীতে চড়তে পছন্দ করে। এ ধরণের বিনা টিকেটের যাত্রীদেরকে রুশ ভাষায় জায়াত বলে ডাকা হয়। কিছুদিন আগে দেখা এ রকম এক ঠগের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করছেন মস্কোভিত্তিক লাইভজার্নাল ব্লগার কোজেনকো (রুশ ভাষায়):

আমি বুঝি না কেন লোকজন বিনে পয়সায় সাধারণ পরিবহনে চড়ে। গাড়ীর কন্ডাক্টরকে ফাঁকি দেবার জন্য তারা গাড়ীর দুই কামরায় মাঝখানের প্রবেশপথ দিয়েই ঢোকে। তারা মনে করে এই ভাবে গাড়ীতে চড়া এক ধরনের বাহাদুরী। পুরো বিষয়টি একেবারেই আমরা ভাবনার বাইরে। যদি তারা বারো বছরের বেশী বয়সের হয় তাহলে আমার উক্তির জন্যে ক্ষমা করবেন, তারা আসলে পুরোপুরি ক্ষতিকর প্রাণী।

আমি আজ এক ট্রলিবাসে করে {(ডিনামো) থেকে (সোকল)} যাচ্ছিলাম। আমাদের কামরাটি ছিল অর্ধেক খালি। এর মধ্যে ছিলাম আমি আর কিছু পেনশনভোগী প্রবীণ যাত্রী। এমন সময় সামনের দরজা দিয়ে প্রায় আমার বয়সী লম্বা একজন প্রবেশ করলো। পরনে তার একটা কালো পুরোন জ্যাকেট এবং হাস্যকর একটা কালো প্যান্ট, যাতে তাপ্পিমারা রয়েছে।

সে বসার চেয়ারের দিকে পা বাড়লো এবং একটা খালি সিটে ধাক্কা খেল। গাড়ীর ড্রাইভার একজন ছোটখাটো শক্তিশালী মহিলা। সে তার কেবিন থেকে বেরিয়ে এল এবং (আহাম্মকটাকে) বললো যদি সে এই ট্রলিবাস থেকে বের না হয় তাহলে এই বাহন কোথাও যাবে না। সে এক হাসি দিয়ে এই কথার জবাব দিয়ে দিল। আসলে সে সবসময় হাসছিল, যেন একটা পাথরের মূর্তি।

গাড়ীর চালক মহিলাটি গাড়ীর সকল দরজা খুলে দিল। সে নেমে পড়লো রাস্তায়। একটা সিগারেট ধরালো এবং সেখানে সে পায়চারি করতে শুরু করলো। দুই মিনিট পর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উঠে দাড়ালো। তার বয়স সত্তর বা তার কাছকাছি। সে তার সীট থেকে উঠে জায়াত-এর (যদি তাকে এ নামে ডাকা যায়) কাছে গেল। তাকে সে অনুরোধ করল যেন এই ট্রলিবাস ছেড়ে চলে যায়। কালো প্যান্ট পরা লোকটা যদিও তার হাসি বন্ধ করলো, “বললো, দাদু (কত বড় শয়তান) তোমার কি (অসুবিধা হচ্ছে)? নিজের সীটে যাও আর সেথায় চুপচাপ বস (গোল্লায় যাক বদমাশ)”। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীটি আবার অনুরোধ করলে কালো জ্যাকেট আর তাপ্পিমারা প্যান্ট পরা লোকটি হাসতে শুরু করে। বয়স্ক মানুষটি রেগে গিয়ে এসময় তাকে জড়িয়ে ধরে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। শয়তানটা তাকে ধাক্কা দিয়ে সরে যাবার চেষ্টা করে। এই সময় আমি ও আরেক প্রবীণ যাত্রী আমাদের সিট থেকে উঠে দাঁড়াই।

যাই হোক আমরা এই যন্ত্রণাটিকে ট্রলিবাস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে সমর্থ হই। ড্রাইভার তার কেবিনে ফিরে আসে ও সমস্ত দরজা বন্ধ করে। প্রবীন ব্যাক্তিটি ও আমি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসি বিনিময় করি এই ভেবে যে আমরা সভ্য সমাজ গড়ছি, হা হা, এরপর আমরা আমাদের যানে করে আমাদের গন্তব্যে এগুই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .