বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ল্যাটিন আমেরিকা: রুপকথা, ভুত, দানব আর ভীতি

Full moon
পূর্ণিমার ছবি ইরারগেরিশের
ল্যাটিন আমেরিকার পৌরাণিক কাহিনীর ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ: কিছু গল্প আমাদের কাছে এসেছে ইনকা, মায়া বা অ্যাজটেক সভ্যতার কাছ থেকে, আর অন্যগুলো ইউরোপ থেকে ঔপনেবেশিকবাদীদের আমদানী। এই ল্যাটিন আমেরিকা সংক্রান্ত বহুজাতিক লেখার প্রথম ভাগে, আমরা জনপ্রিয় কিছু রুপকথা আর লোককাহিনী শোনাবো যেমন লোরোনা, সেগুয়া, কাডেজোস আর শয়তানের বাতি।

আমাদের সংস্কৃতির অংশ হচ্ছে বিভিন্ন রুপকথা আর লোককাহিনী। নিনা মাগিদ তার ‘ভীতি আর ভয় দেখানো’ নামক লেখায় (স্প্যানিশ ভাষায়) উল্লেখ করেছেন যে এইসব গল্প সাধারনত আগুনের চারপাশে বসে প্রথম পুরুষে বলা হতো, আর আমি তার সাথে একমত। এইসব গল্পের স্থানীয় সংস্করণ আমি ছুটির সময়ে শুনতাম গ্রামের কোন খামার বাড়িতে খাওয়ার টেবিলের চারদিকে সবাই বসে যখন শুধু একটি কেরোসিন বাতির আলো আমাদের মুখের উপরে থাকত। কুকুরের কোন কারন ছাড়া ডেকে উঠলে বা গভীর রাতে ঘোড়া ছোটার শব্দ শুনলেই এইসব গল্প মনে পড়ে যেত। নিনা তার মার আর্জেন্টিনার বাড়ীতে বিখ্যাত তিনটি ভীতিকর গল্পের কথা বলেছেন: রহস্যময় আলো, বিধবা আর শুয়োর।
শয়তানের মুখ
ভীতিকর জীব যা আপনাকে খেতে আসে: ছবি কেভিনদুলেইর সৌজন্যে

এল ব্লগ দো ওরো এর কমোদিন বলছেন এই রহস্যমাখা আলো ব্যবহার করা হয় গুপ্তধন খোঁজার কাজে: যদি এটা সাদা আলো হয়, তাহলে এটা সোনা আর রুপার গুপ্তধনের ইঙ্গিত দেবে। যদি লাল হয়, তাহলে তাদেরকে পালাতে হবে, যেহেতু শয়তান এখানে আছে। এই রুপকথা শুধুমাত্র আর্জেন্টিনায়ই বিদ্যমান এমন নয়: সারা বিশ্বে মানুষ গোধুলীর এইসব রহস্যময় আলোর মানে বলার চেষ্টা করেছে, যেমন স্পেন আর চিলিতে।

রুপকথার বিধবা হচ্ছে ভালোবাসাহীন এক নারী, যে তার স্বামী তার সাথে অবিশ্বস্ত ছিল জানার পরে মারা গিয়েছিল। সে তখন শয়তানের সাথে চুক্তি করে পৃথিবীতে সারা জীবনের জন্য থেকে এই অবিশ্বস্ততার প্রতিশোধ নেয়ার। সে একা চলা পুরুষ ঘোড়সওয়ারীদের ঘোড়ার উপর লাফিয়ে পড়ে তাদের পিছনের আসনে চড়তো, আর তারা যদি ভয় পেতো তাহলে সে তাদের মেরে ফেলতো। বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় ছিল একটি ক্রুশ সাথে থাকা আর ভয় না পাওয়া। এই রুপকথা আর্জেন্টিনার লোককাহিনীতে এমনভাবে গেঁথে আছে যে এখনও কোন অপ্রত্যাশিত বা অনভিপ্রেত ঘটনার কথা বোঝাতে ‘বিধবার আগমন’ বলা হয়।

এল লোকো বেন্ডার (পাগল বেন্দার) ও কালো বিধবাকে নিয়ে লিখেছে, আর এই রোম খাড়া করা গল্পের সাথে আর একটু নাটকীয়তা জুড়ে দিয়েছে এই কথা দিয়ে যে যেসব অবিশ্বস্ত পুরুষদের সাথে এই বিধবা দেখা করবে তাদের ধীর আর কষ্টদায়ক মৃত্যু হবে।

কোস্টা রিকায় একই ধরনের একটা রুপকথা আছে লা সেগুয়া নামে। লা সেগুয়া তার চিত্তাকর্ষক আবয়ব দিয়ে মুগ্ধ করে একা আর অবিশ্বস্ত পুরুষদের ঘোড়ার সওয়ারী হবার অনুরোধ করবে। কিন্তু একবার ঘোড়ার উপরে উঠতে পারলে, পুরুষরা পিছনে ফিরলে দেখতে পারবে যে তার মুখ একটা ঘোড়ার খুলির মতো পঁচা মাংসে ঢাকা আর সে তাদের গালে কামড় দিয়ে তাদেরকে অবিশ্বাসী হিসাবে চিহ্নিত করবে। কিন্তু ব্লগার এলিমেন্তাল লিখেছে যে এর পরিণতি আরও খারাপ হতে পারে: সব অবিশ্বাসী পুরুষ তাদের চোখ খোলা রেখে মারা যায়, আর যারা অবিশ্বস্ত ছিল না তারা বেঁচে যায়, কিন্তু বাকি জীবনের জন্য খোঁজা হয়ে যায়।

এলিমেন্তাল কাডেজোস নিয়েও লিখেছে যা একটা পিশাচ কুকুর। রাত্রে ভারী শিকল টানার শব্দ করে সেটি বের হয়, যদিও শেকলকে দেখা যায় না। ছোট বাছুরের আকৃতির এই কুকুরের রয়েছে জটা লাগা লোম, বড় বড় দাঁত আর জ্বলজ্বলে চোখ, নাক আর কান আছে। তার পথে যে পড়বে, দুষ্ট বাচ্চা থেকে যে কোন লোক অথবা পশু, সেই ওকে ভয় পাবে। তবে এই ভীতিকে সুবিধাজনক হিসাবে দেখা হয়, যেহেতু এই কুকুর মাতাল লোকের সাথে হেঁটে দেখে যে সে ঠিকমতো বাড়ী পৌঁছায় কিনা। এমনকি রাতের অন্যান্য খারাপ জিনিষ যেমন লা লোরোনা বা সাধারণ চোর থেকে তাদেরকে রক্ষা করবে। গুয়েতেমালায়, অবশ্য তারা মনে করে যে এই কুকুরের দুইটা ধরন আছে: সাদা আর কালো। সাদা কুকুর যার সাথে হাঁটবে তাকে রক্ষা করবে আর ডেগুয়েটা.কম এ মিসেস আর্জেন্টিনা বার্সিয়া বলেছেন কি করে কাডেজোস তাকে তার বাবার মৃতদেহের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এল ব্লগ চ্যাপিনে আর একটা রোম খাড়া করা গল্প বলে এল কাডেজোস কি করে একটা লোকের কাছে এসেছিল আর যখন অলৌকিক কিছুর সাবধানবাণী দেশের লোক দিত মানুষ কেমন করে মেনে চলতো।
লা লোরোনা
লা লোরোনা, ছবি তুলেছেন রেয়ারওয়ার্ল্ডস

আজকের শেষ লোককাহিনী লা লোরোনা, যার কারনে সঙ্গম ইচ্ছুক বিড়ালকে আমার ছেলেবেলায় আমি অনেক দিন পর্যন্ত ভয় পেতাম। লা লোরোনা হচ্ছে একটি “ক্রন্দণরত মহিলা” আর এটা বেশ কয়েক দেশে ভীতির একটি উপকরণ। মেক্সিকো থেকে চিলি পর্যন্ত, লা লোরোনা পানির কাছে থাকে (যা আপনার বাড়ীর পানির চৌবাচ্চাও হতে পারে) আর তার হারিয়ে যাওয়া বাচ্চার জন্য কাঁদে। সে সেখানে আপনাকে শুধু ভয় দেখানোর জন্য থাকতে পারে, বা আপনি যদি কলোম্বিয়ায় থাকেন সে আপনাকে তার বাচ্চা এক সেকেন্ডের জন্য ধরতে বলতে পারে যেহেতু সে খুবই ক্লান্ত। আর তার পরে আপনি নিজে লা লোরোনা হিসাবে অভিশপ্ত হবেন যতদিন না কেউ এই বোঝা আপনার কাছ থেকে নেয়। কি করে তার বাচ্চা হারিয়ে গিয়েছিল তার গল্প একেক দেশে একেক রকম, কিন্তু বেশীরভাগ গল্পেই একই ধরণের কিছু বিষয় আছে। এক গল্পে আছে যে এক মহিলা তার থেকে ধনী পুরুষ বিয়ে করেছিল, উপেক্ষিত আর পরিত্যক্ত হবার পর তার রাগ উপশম করতে চেয়েছিল বাচ্চাকে ডুবিয়ে মেরে ফেলে, আর পরে তার এই সিদ্ধান্তে অনুতপ্ত হয়েছিল। আর এক সংস্করনে একজন চঞ্চল তরুণীর কথা আছে যে তার বাচ্চাকে নদীর ধারে একটা পাথরে রেখে নাচ করতে যায় এই ভেবে যে ওখানে তার বাচ্চা নিরাপদ থাকবে, আর তার পর নদীর পানি বেড়ে তার বাচ্চাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, আর তাই এই মহিলা নদীর কাছে থাকে আর সবাইকে জিজ্ঞাসা করে যে তারা তার বাচ্চাকে দেখেছে কিনা।

নিম্নের পাব্লো আর ফ্রান্সিস্কো সেস্পেডেস জুনিয়র দ্বারা নির্মিত কোস্টারিকান স্বল্প দৈর্ঘ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘আসুস্তো'র ভিডিও দেয়া হলো। এটি কোস্টারিকার বেশীরভাগ লোককাহিনী দেখায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ষাড় বিহীন গাড়ী আর মাথা বিহীন পাদ্রী। কোন ভাষান্তর দরকার নেই: কারন যখন আপনি ব্যস্ত থাকবেন একের পর এক ভীতি থেকে পালাতে মনে হয় কথার কোন দরকার নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .