বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ব্রাজিল: কারান্দিরু হত্যাযজ্ঞের বিচার না হওয়া আর ভুলে যাওয়া

কারান্দিরু
কারান্দিরু জেলখানা; ক্যাপশনে বলা হয়েছে “ওখানকার আত্মাদের দীর্ঘ সময় ভুলে যাওয়া হয়েছে”।
ছবি: ফ্লিকার ব্যবহারকারী সিল্মারেইলিস এর সৌজন্যে এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে প্রকাশিত।

ষোল বছর আগে (২রা অক্টোবর, ১৯৯২) সাও পাওলোর কারান্দিরু জেল কমপ্লেক্সের নবম প্যাভেলিয়নে রায়ট শুরু হওয়ার পর কারান্দিরু হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। রায়ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মিলিটারী পুলিশের এলিট ফোর্সকে খবর দেয়া হয় আর তাদের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১১ জন কারাবন্দী মারা যায়। কোন পুলিশ এতে মারা যায়নি। একে ব্রাজিলের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি বড় ঘটনা হিসাবে দেখা হয়।

মানবাধিকার সংস্থারা দাবী করে যে বেশীরভাগ বন্দীরা নিরস্ত্র ছিল আর কোন ধরনের প্রতিরোধ করেনি, আর পুলিশ যেসব বন্দী আত্মসমর্পন করেছিল বা লুকানোর চেষ্টা করছিল তাদের উপরও গুলি চালিয়েছে। এটা সত্বেও কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি, আর শুধুমাত্র এই অপারেশনের কমান্ডিং অফিসার কর্ণেল উবিরাতান গুইমারেসের বিচার হয়েছিল (সেপ্টেম্বর ২০০৬ এ যাকে হত্যা করা হয় সম্ভবত ক্রোধের কারনে)। তাকে প্রথমে ৬২০ বছর জেলের সাজা দেয়া হয় কিন্তু পরে তা বিচারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে অভিযোগ এনে প্রত্যাহার করা হয়।

এই সংক্রান্ত মিডিয়ার খবর অনেক ব্রাজিলিয়ান ব্লগার পুন:প্রকাশ করে, কিন্তু খুব কম ব্লগারই এই দিনের জন্য নতুন কোন লেখা দিয়েছে। দিনহা এদের মধ্যে একজন যে এইদিনকে স্মরণ করেছে (পর্তুগীজ ভাষায়) ‘ব্রাজিলিয়ান রাষ্ট্রের ইতিহাসে বন্দী মানুষের উপরে সংগঠিত সব থেকে বড় কাপুরুষোচিত অপরাধ’ হিসাবে:

Ontem, 02/10/2008, fez 16 anos que o Estado divulgou oficialmente que massacrou 111 cidadão brasileiros. Todos os que foram massacrados, assassinados, não estavam em guerra franca com o Estado, mas sim, no momento do massacre, eram prisioneiros, estavam sob cutódia desse mesmo Estado. Por isso estavam desarmados e mais, muitos estavam trancados em celas.

গতকাল (০২/১০/২০০৮), ১৬ বছর পার হল সেইদিনটি থেকে যখন সরকার ঘোষণা করেছিল যে তারা ১১১ জন ব্রাজিলিয়ান নাগরিককে হত্যা করেছে। এদের সবাই যাদেরকে এই হত্যাযজ্ঞ, হত্যালীলার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তারা রাষ্ট্রের সাথে কোন উন্মুক্ত যুদ্ধে লিপ্ত ছিলনা, বরং হত্যাযজ্ঞের সময়ে তারা বন্দী ছিল, তারা রাষ্ট্রের হেফাজতে ছিল। এই কারনে তারা নিরস্ত্র ছিল আর এদের মধ্যে অনেকে নিজেদের কুঠুরিতে তালাবদ্ধ ছিল।

‘দন্ডমুক্ততা’ নামক ব্লগ পোস্টে টারসো আরউজো আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে এই অপরাধের জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি, আর কোন পরিসংখ্যান নেই যে কবে অভিযুক্তদের বিচার করা হবে:

O fato de o processo envolver muitos réus, além das dificuldades estruturais do Judiciário para responder ao acúmulo de ações pendentes, faz a tramitação ficar lenta.
O processo está em grau de recurso no Tribunal de Justiça de São Paulo (TJ-SP). Por haver indícios de autoria de crime doloso contra a vida, o juiz determinou que os réus fossem julgados por júri popular, situação com a qual os denunciados não concordam.
Depois que o TJ-SP decidir a questão, será necessário definir os procedimentos para o julgamento de um número elevado de réus. Não há previsão de prazo para que os réus sejam julgados.

এটাই বাস্তবতা যে এই প্রক্রিয়ায় অনেকজন বিবাদী আছে, আর বিচার ব্যবস্থা যে কাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পড়ে থাকা অনেক মামলার কারনে, তা এই প্রক্রিয়াকে ধীরে করে দেয়।

সাও পাওলো এর আদালতে এই প্রক্রিয়ার আপীল চলছে। বন্দী জীবনের বিরুদ্ধে একটা জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হওয়ার কারনে, বিচারক বলে দিয়েছে যে বিবাদীদেরকে জুরির কাছে প্রেরণ করা হবে, যা অভিযুক্তরা মানছে না।

এই বিদ্রোহ কি করে শুরু হয়েছিল এই সংক্রান্ত ইয়াহু আনসার্স এর একটা প্রশ্নের উত্তরে পাক্কা একটা গল্প বলে যা সে তার পরিচিত একজনের কাছ থেকে শুনেছিল; কি করে নবম প্যাভিলিয়নের অল্প কয়েকজন বন্দী এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে গিয়েছিল:

Um conhecido de família viveu aquele inferno. Ele nos disse que na verdade ninguem sabe afirmar exatamente como tudo começou. Ele disse que ajudou a jogar mais de 200 corpos dentro do fosso de supostos elevadores existentes no presídio e que tiveram suas portas lacradas com concreto. Seu amigo de cela (barraco) foi morto por policiais, ele só sobreviveu porque se escondeu atras da porta, quando as celas foram desocupadas pelos presos a pedido dos pms ele disse que correu juntamente com tantos outros presos pelas escadarias da prisão que estavam lavadas de sangue e cachorros pastor alemão iam ao encalço deles. Um dos cachorros mordeu sua mão direita. Disse que ficou no pátio com outros presos mais de 12 horas pelados e todos de cócoras. O crime dele???? Participou de um assalto a uma casa lotérica, réu primário cumpria pena no pavilhão 9, onde tudo começou.

আমার পরিবারের পরিচিত একজন এই নরকের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সে বলেছে যে আসলে এটা কি করে শুরু হয়েছিল তা কেউ জানে না। সে বলেছে যে সে প্রায় ২০০টি মৃতদেহ একটি লিফটের জন্যে খোড়া গর্তে ফেলতে সাহায্য করেছে। জেলে এই লিফটি চালু করার কথা ছিল কিন্তু তা পরে কংক্রিট দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। তার সাথে একই কয়েদে থাকা (বারাকো নামে) একজন পুলিশ কর্তৃক মারা যায়। সে নিজে বেঁচে গিয়েছিল কারন যখন পুলিশের অনুরোধে বন্দীরা কুঠুরি খালি করে বেরিয়ে আসে সে তখন দরজার পিছনে লুকিয়ে ছিল। পরে সে নীচের তলায় আরো অনেকের সাথে পালিয়ে যায়। সে দেখেছে জেলখানার সিঁড়ি রক্তে ভেসে যাচ্ছিল আর জার্মান শেফার্ড কুকুর তাদেরকে তাড়া করছিল। একটা কুকুর তার ডান হাতে কামড় দেয়। সে নাকি উঠানে অন্যান্য বন্দীদের সাথে উলংগ অবস্থায় বসে ছিল। তার অপরাধ? সে একটা লোটোর দোকানের চুরিতে অংশগ্রহন করেছিল, প্রথমবার অপরাধ করেছিল আর নবম প্যাভিলিয়নে সাজা কাটছিল যখন এসব শুরু হয়।

দ্যা হাব একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে পিপি'র, যে অষ্টম প্যাভিলিয়নে সাজা কাটছিল আর তার জানালা থেকে এই বীভৎস দৃশ্য দেখেছে। সে বলছে যে ঘোষিত ১১১ টা মৃতদেহের সংখ্যা শুধুমাত্র যে কয়টা দেহ পাওয়া গেছে তার হিসেবে- সে বিশ্বাস করে যে ৩০০ জনের বেশী লোক মারা গেছে। ৩০ জনের মতো কারাবন্দীসহ তাকে ডাকা হয়েছিল শবগুলো বহনের জন্য, যার মধ্যে প্রায় ৫০টা সে নিজে বহন করেছে। পিপি হাহাকার করে বলে যে ১৬ বছর পার হওয়ার পরও, এই মামলার বিচার হয়নি আর একে ভুলে যাওয়া হয়েছে:

“খুবই বীভৎস ছিল। কিন্তু আমাকে বেশী পীড়া দেয় – কি অদ্ভুত যে সবাই এখন তা ভুলে গেছে- কারান্দিরু হত্যাযজ্ঞ নিয়ে ব্রাজিলে কেউ আর কথা বলে না” (পিপি, ইউনিভার্সিডেড দে কমিউনিকাসিও লিভ্রে থেকে একজন মানবাধিকার কর্মী রাকুয়েল কুয়িন্টিনোর সাথে স্বাক্ষাৎকারে)।

কারান্দিরু জেলখানা দক্ষিন আমেরিকার সব থেকে বড় জেলখানা ছিল আর এক সময়ে প্রায় ৮০০০ কয়েদী ছিল এখানে। ২০০২ সালের ৯ই ডিসেম্বর এটি ভেঙ্গে ফেলা হয় একটা উন্মু্ক্ত পার্ক তৈরির জন্য। ইউটিউবে এমট্রোম্বেলির আপলোড করা সাংবাদিকতার ছাত্রদের তৈরি একটা ভিডিও প্রামান্যচিত্র আছে যেখানে এটার শেষের মুহুর্তগুলো দেখানো হয়েছে; খালি কুঠুরি আর ভেঙ্গে ফেলা। ফ্লিকার ব্যবহারকারী ইস্পিকের কাছে কারান্দিরুর ছবির গ্যালারি আছে ভেঙ্গে ফেলার ঠিক আগে তোলা।

যারা এই জেলের আর হত্যাযজ্ঞের ইতিহাসের আরও গভীরে যেতে চায় তারা শুরু করতে পারে কারান্দিরু শিরোনামের উচ্চ প্রশংসিত চলচ্চিত্রটি দেখে। হেক্টর বেবেঙ্কো ছিলেন এর নির্দেশনায় আর বহুল বিক্রিত বই এস্তাকো কারান্দিরু (কারান্ডিরু স্টেশন, এখনো ভাষান্তরিত হয়নি) এর ছায়বলম্বনে এটি তৈরি। এই বইটি লিখেছেন উজ্জীবিত ব্রাজিলিয়ান ডাক্তার ড্রাউজিও ভারেল্লা, যিনি এইডস মাহামারি নিয়ে ১৯৮৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত কারান্দিরুতেহ স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .