বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সুইডেন: রমজান নিয়ে একটি সংবাদপত্রের ব্লগ

যেহেতু মুসলমানদের রমজান মাস এবং দৈনিক উপবাস ভাঙ্গার রীতি ইফতার কাছে চলে এসেছে, সুইডিশ সমাজ চিন্তা করছে যে “নতুন সুইডিশদের” এই ঐতিহ্যের সাথে কি করে দ্রুত মানিয়ে নেয়া যায়। তারা মুসলমান ছুটির দিনগুলোকে উদযাপন এবং নিজেদের মত করে যায়গা করে দেয়ার চেষ্টা করছে।

Ramadan Blogসুইডেনের দ্বিতীয় বৃহৎ দৈনিক, সোয়েন্সকা ডাগব্লাডেট একটি রমজান ব্লগ চালু করেছে (সুইডিশ ভাষায়) যেখানে তিনজন ধার্মিক মুসলিম ব্লগার – একজন পুলিশ, একজন ছাত্র এবং একজন আইনজীবি এই পবিত্র মাস জুড়ে তাদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে সবাইকে জানাবেন। এর বিষয়বস্তু হাল্কা থেকে গভীরে যাবে যার মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে যে সুইডেনের সমাজে একজন মুসলমানের বর্তমান অবস্থান কি।

এই ব্লগাররা তাদের নিজস্ব গ্রুপ ব্লগ বেত্রাকটারেন্স ওগা: “যার চোখে যেমন” এ সচরাচর লিখে থাকেন।

সুইডিশ সমাজ আর মুসলমানদের সম্পর্ক নিষ্কন্টক নয়। এটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে যে সুইডেনে মুসলমানদের উৎসবগুলো হচ্ছে বানিজ্যিক কারনে না সত্যিই সুইডিশ সমাজের অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীলতার কারনে (যা সুইডিশরা গর্ব করে থাকে)। বড় বড় খাবার দোকান এখন হালাল মাংস রাখে এবং তাদের পন্যের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য করে, এবং এই রীতি বানিজ্যের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়েছে কারন তারা সুইডেনের ক্রমবর্ধমান মুসলমান ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট। 

গতকাল ব্লগার চেরিন আওয়াদ প্রধানমন্ত্রীর একটি হালাল কসাইখানা পরিদর্শনের খবর শুনে এই মন্তব্য করেছেন:

“Såg att vår statsminister igår var och besökte ett halal-slakteri (finns inte alltför många i Sverige). Om ramadan sa han att det kunde jämföras som en vit vecka och på frågan om han själv trodde att han skulle fixa att fasta svarade han att “bara han gav sig den på´t så..” Coolt. Snacka om att plocka pluspoäng hos en grupp som kanske inte har det största förtroendet hos de blå. Good boy. (…) ska jag ändå passa på att skvallra lite om att några av er läsare lite längre fram kommer ges möjligheten att prova på att vara muslim för en dag med allt vad bön, fasta och moskébesök innebär. Men ingen tvångskonvertering. Wallah, jag lovar! Mer info om hur man ansöker kommer längre fram. Statsministern kanske är intresserad av att vara med?”

“গতকাল দেখলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি হালাল কসাইখানা পরিদর্শণে গিয়েছেন – (সুইডেনে এরকম প্রতিষ্ঠান বেশী নেই)। রমজান সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে এর সাথে খ্রীষ্টান উপবাসের মিল আছে। আর তিনি কি রোজা রাখতে পারবেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন “যদি আমাকে করতে হত…” ভালই। এটি হয়ত রক্ষণশীল দলের উপর আস্থা না রাখা দলকে কিছুটা খুশী করা, রাজনৈতিক কিছু প্রাপ্তির জন্যে। সাধু। (..) যা হোক আমার তোমাদের কিছু বলার আছে যে পরবর্তীতে হয়ত (এই ব্লগের) পাঠকদদের সুযোগ দেয়া হবে একদিনের জন্যে মুসলমান হয়ে সব রোজা, প্রার্থণা করা এবং মসজিদে যাওয়ার। কিন্তু কোন জোরপূর্বক ধর্মান্তর নয়। ও আল্লাহ, আমি প্রতিজ্ঞা করছি! কি করে অংশগ্রহণ করতে পারবে তা পরে জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সাথে যোগ দেবেন কি?

ব্লগারদের লেখা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার বিষয়ে অধ্যয়নরত একজন সুইডিশ মুসলমান ছাত্রের গুয়ানতানামোর বন্দীদের (যাদের মানবাধিকার হরন করা হয়েছে) সম্পর্কে চিন্তাধারা, আরও রয়েছে একটি সন্জীবনী পানীয়ের প্রস্তুতপ্রনালী, রোজার দিনে সতেজ থাকার জন্যে। তাদের বিষয়বস্তু রমজান মাসের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে যাতে shwei, shwei -আস্তে আস্তে সুইডিশরা একে বুঝতে পারে।

তবে সুইডিশ ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া কি এই সময়কার উপযোগী ক্ষমার দৃষ্টিপূর্ণ? তারা বাহ্যিকভাবে এ নিয়ে নিরব। তবে একেবারে নিরব না..

হোমান আনওয়ারী ওচ সেমুস (সেমুস মানে সুইডেনে সেকুল্যার মুসলমান) এর ব্লগাররা এই নতুন রমজান ব্লগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মটেসপ্লাটসেন ফ্রেড একে শান্তির মিলনস্থল বলেছেন। তবে ইয়ান কালবার্গ বিষয়টিকে উসকে দিয়েছেন এই বলে যে এ যেন ডানপন্থী খ্রীষ্টান ইভাঙ্গেলিস্টদের গতানুগতিক সেক্যুলার সুইডিশ প্রচার মাধ্যমে পাত্তা দেয়া।

এটি কি ঝড় ওঠার আগের শুনশান নিরবতা? হয়ত…

যদি সাম্প্রতিক ওপিনিওন পোল এবং ডানপন্থী দলগুলোর প্রতি জনগণের সমর্থনের বিষয়গুলি আমলে নেয়া হয় তাহলে বলা যায় অসহিষ্ঞুতা ও বিদেশী বিদ্বেষ সুইডেনে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর গতকালই মাত্র রমজান ব্লগ শুরু হল, এই চাঁদের বয়সকালেই অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।

সুইডিশ সমাজে রমজান সম্পর্কে ব্লগটি কি “আদি সুইডিশদের” ইসলাম সম্পর্কে ধারণা পাল্টাবে? এটি বলা কঠিন.. তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। এখনও অনেক যুগ বাকী সুইডিশদের এটি বলার জন্যে “আতিয়াব আত-তিহানি বি মুনাসাবাত হুলুর শাহরু রমাদান আল মুবারাক” (রমজান মাস উপলক্ষ্যে সবাইকে অভিনন্দন)।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .