বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: মুশাররফ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে

আট বছর, তিনশো পাঁচ দিন আগে একজন পাকিস্তানি জেনারেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি শান্তিপূর্ণ অভ্যুত্থান হয়েছিল যা দূর্ণীতিগ্রস্ত নেতা নাওয়াজ শরীফ এর কাছ থেকে ক্ষমতা কেঁড়ে নিয়ে নিয়েছিল। তখন তা ছিল একটি নতুন কালের অঙ্গীকার, তখন তা ছিল ঝাঁপসা এক লক্ষ্যের দিকে রোমাঞ্চকর যাত্রা যাকে তখন ‘জ্ঞান আলোকিত পরিমিতিবোধ’ বলা হয়েছিল, আর একে অবশ্যই সমাজকে দূর্নীতি নামক মহামারি থেকে রক্ষা করার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসাবে ধরা হয়েছিল। পাকিস্তানিরা তখন আনন্দ করেছিল, কিন্তু শীঘ্রই মানুষ বুঝতে পেরেছিল যে এই আশির্বাদ ধীরে ধীরে একটা না চাওয়া মহামারিতে পরিণত হয়েছে আর নিশ্চিতভাবে এই সরকার অবাঞ্চিত একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। অত্যাচারের অনেক দিবস পরে, গতকাল এই দু:শাসনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছে যার ব্যাপ্তি ছিল নয় বছর থেকে ৬০ দিন কম, পাকিস্তান নতুন এক অধ্যায় শুরু করছে।

পাকিস্তানের জন্য আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ দিন মনে হচ্ছিল কিন্তু জনগণের জন্য গুজবমিশ্রিত চরম উত্তেজনার তোড়ে ভেসে গেল দিনটি যখন খবর আস্তে আস্তে ছড়াতে লাগল। মানুষের কাছে টেলিভিশনের খবর, এসএমএস আর ইমেইল থেকে একটার পর একটা গুজব ভেসে আসছিল; মনে হচ্ছিল তারা নিজেরাই এসব দিয়ে পাকিস্তানের নিয়তি ঠিক করবে। ডেডপ্যান থটস ব্লগ খুব সহজে গুজবের জোয়ারের সারসংক্ষেপ করেছেন একবাক্যে “ফোন বাজছে- (মনে হচ্ছে) মুশিকে ইমপিচ করা হয়েছে – যাও জিইও [একটি টেলিভিশন চ্যানেল] ছেড়ে দেখ এখুনি”। কেউ কেউ আমাদেরকে বিশ্বাস করাচ্ছিল যে এই লোক লড়ে যাবে, অন্য দিকে কেউ কেউ ভেবেছিল সে শেষ প্রতিশোধ হিসাবে সে বিচার ব্যবস্থা পুন:স্থাপন করে যাবে, কিন্তু শেষে যা দেখা গেল তা ছিল একটা সাহসী বিদায়ী ভাষণ, তার অশ্রুসিক্ত বদনে ইস্তফার ঘোষণা যা সিয়াম এর ব্লগ বর্ণনা করেছে এই শব্দগুলি দিয়ে ‘এক করুণ চেহারার মোশাররফ পেছনে পাকিস্তানের পতাকা আর জাতির পিতার ছবি নিয়ে‘ বলছেন যে ‘আমি আমার ভবিষ্যৎ জনগনের হাতে ছেড়ে দিলাম।’

Musharraf
পারভেজ মুশাররফ- ছবি ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম ফটোস্ট্রীম ইন ফ্লিকার এর সৌজন্যে এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্স এর আওতায় ব্যবহৃত।

মোশাররফের ১৮ই আগস্টের অশ্রুপূর্ণ বিদায় ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ৪ দিনের মধ্যে এসেছে। পাকিস্তান বেদনা নিয়ে ৯ বছরের এই রাজবংশের শাসনকাল শেষ করছে। দ্যা পাকিস্তানি স্পেক্টেটরের এর মতে মুশাররফের শেষ বক্তব্য ছিল ইতিহাসে ফিরে যাওয়া, যা তুলে ধরেছে দেশ আর মানুষের জন্য তিনি কি করেছেন।

পাকিস্তানি ব্লগাররা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, একদিকে কেউ কেউ ‘ফর হি ইজ আ জলি গুড ফেলো‘ গেয়ে মোশাররফকে উদযাপন করেছে, অন্য দিকে তার কিছু বিশ্বস্ত ভক্ত দ্রুত তাকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে কিন্তু সবাই সাবধানতা সহকারে এই একনায়কতন্ত্রের সমাপ্তি অবলোকন করছে। ব্যাঙ্গ করে ইয়েহ দ্যাট টু ব্লগ কিছু কথা বলেছে, আম্মার লিখেছে কেমন করে নতুন ভাবে ‘বিড়ালের ঝগড়া‘ শুরু হতে যাচ্ছে (রাজনীতিবিদদের মধ্যে), চৌরঙ্গী মোশাররফের পরে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেছে, সাইকোটিক ডিস্কোর্সেস নতুন ধরনের ডেমোন-ক্রেসি সম্পর্কে জানিয়েছে আর এমবি সার্কেল অফ সাকার্সেস নিয়ে কথা বলে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে।

এখন যে প্রশ্ন আলোচিত হচ্ছে তা হলো মোশাররফ কি পাকিস্তানের বাইরে আশ্রয় নিতে পারবে নাকি তাকে বিচার করা হবে তার বিরুদ্ধের আনা অভিযোগের জন্য। এটা অবশ্যই পাকিস্তানের চলার পথে একটি কঠিন মোড় যেখানে অনেক কিছু এর উপর নির্ভর করছে।

একজন ভাবতেই পারে যে এর পর কি ঘটবে, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা অভিলাসীদের বিশাল এক সংমিশ্রণ অপেক্ষা করছে, যদিও দেশকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করার গুরুভার আসিফ জারদারি আর নাওয়াজ শরিফের ঘাড়ে পড়বে, দুজনই অনির্বাচিত রাজনীতিবিদ যাদেরকে একটা জাতি বিশ্বাস করছে তাদেরকে এই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের করার জন্য।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .