বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মালদ্বীপ: অ-মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে না?

গত ৭ই আগস্ট, এশিয়ার সব থেকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা শাসক মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম দেশের সংবিধানের এক সংশোধনী অনুমোদন করেছেন। চার বছর ধরে হতে থাকা সাংবিধানিক সংশোধনীর সমন্বয় এটা। মালদ্বীপবাসী এইবার ভাগ্যবান কারন ১৯৭৮ সালে গাইয়ুম যখন ক্ষমতায় আসেন তিনি সংবিধানের সংশোধনী শুরু করেন যা ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ১৭ বছর ধরে চলে।

সংশোধীত সংবিধান মানুষকে বেশ কিছু নাগরিক অধিকার যেমন স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের আর সমাবেশের অধিকার প্রদান করেছে। কিন্তু এই সংবিধান অমুসলিমদের মালদ্বীপের নাগরিক হওয়া থেকে আটকিয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে খর্ব করে। যদিও সরকার দাবি করে যে মালদীপ ১০০% মুসলিম দেশ, ব্লগার আর মানবাধিকার কমীরা নাগরিকত্বের ব্যাপারটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সোচ্চার আছে।

ব্লগার মুইজু সংবিধানের নাগরিকত্বের ক্লজটা দেখেছেন আর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে রাজনীতিবিদদের বিচক্ষণতার কাজ হয়নি সংবিধানে এটা অন্তর্ভুক্ত করা:

ব্যাপকভাবে গুজব শোনা যাচ্ছে যে মুসলিম না এমন কারো নাগরিকত্ব মালদ্বীপে আর দেয়া হবে না। তবে আর্টিকেল ৯ এর বিদ্যমান কথা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এরই মধ্যে মালদ্বীপের নাগরিক কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করেছে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হবে কিনা তা পরিস্কার না। তাই এই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে সাংবিধানিক আদালতে পেশ করতে হবে (মালদ্বীপের ক্ষেত্রে, এটা ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্ট) আদালতের কেসের মত। কিন্তু এই আর্টিকেল অবশ্যই সেই (মুসলিম বা অমুসলিম) বাবা মা যাদের পুরানো সংবিধান অনুযায়ী মালদ্বীপের নাগরিকত্ব আছে, তাদের উত্তরসূরী অ-মুসলিম বাচ্চাদেরকে মালদ্বীপের নাগরিক হওয়া থেকে আটকাবে।

আমি বিশ্বাস করি যে সংবিধানের সংশোধনীর সময় উপরের নাগরিকদ্বের আর্টিকেল প্রণয়ন করা রাজনীতিবিদদের হয়ত একটা বিজ্ঞ সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রথমত: যদি এই আর্টিকেলের পিছনের কারন হয় মালদ্বীপের লোকের ইসলামের প্রতি বিশ্বাসকে রক্ষা করা, আমার বিশ্বাস এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি! এতে খারাপ আরও বেশি হতে পারে, যখন আর্টিকেলের প্রয়োগের অবাস্তবতার একে খাটো করে দেবে নাকি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক চাপ সামলানো কঠিন হবে।

নাগরিকত্ব ধারার সমালোচনা করেছে ইন্সটিটিউ অফ রিলিজিওন এন্ড পাবলিক পলিসি, একটা আমেরিকান বেসরকারী সংস্থা, যা নন-মুসলিম মালদ্বীপবাসীর ব্লগে রিপোর্ট করা হয়েছে।

এই ব্যাপারটা আগে দিভেহি সোসাইটি আর সেকুলার মালদিভস ব্লগ আলোচনা করেছিল।

শুধুমাত্র নাগরিকত্ব ধারাই সমালোচনার সম্মুখীন হয় নি। ইধিকিলি বলেছেন যে সংবিধানে বেশ কিছু ত্রুটি আছে

যদিও সংশোধীত সংবিধান মালদ্বীপবাসিকে বেশী স্বাধীনতা আর সুযোগ দেবে আগের সংবিধানের তুলনায়, এটা একটা ত্রুটিযুক্ত সংবিধান বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতাসহ। যদিও ক্ষমতা আলাদা করা প্রেসিডেন্শিয়াল সিস্টেমের একটা ধারা, কিন্তু সংবিধানে বেশ কিছু ত্রুটি আছে যা মালদ্বীপে একটা কার্যকরী প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি হতে রোধ করে আর যা এক্সিকিউটিভ আর সংসদের জবাবদিহীতা কমিয়ে দেবে। অনুমোদিত সংবিধান একটা বাইক্যামেরাল সংসদের সুযোগ দেয়না, কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না, আর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছরের জায়গায় পাঁচ বছর হবে। অন্য একটা ব্লগে আমরা এই বিষয়গুলো আলোচনা করেছি, আর অন্য লেখকেরা ব্যাপারটা নিয়ে তাদের উৎকন্ঠা জানিয়েছে।আমরা আশা করি যে মালদ্বীপের যুবকেরা একটা ভালো সংবিধানের জন্য কাজ করবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .