বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ক্যাম্বোডিয়া: গণহত্যা নিয়ে ব্লগিং

২০০৪ সালে ব্রাউন ইউনিভাসিটি থেকে গ্রাজুয়েট হওয়ার পর স্পষ্টবাদি আর চতুর এলেনা লেসলি ক্যাম্বোডিয়ায় হেনরি লুস স্কলারশীপ পেয়েছিলেন দ্যা নম পেন পোস্টে লেখার জন্যে। এশিয়া সম্পর্কে দীর্ঘদিনের আগ্রহ থাকায় এটি ভালো একটি জুড়ি মনে হয়েছিল। যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত আর অতি দরিদ্র একটা সমাজের ভিতরে প্রবেশ তার জন্য এটি একটি দৃষ্টি উন্মোচনকারী অভিজ্ঞতা ছিল।

তিনি তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এ দেশে ফিরে আসার।

এর পর এলেনা আমেরিকার ফ্লোরিডায় তিন বছর সেন্ট পিটার্সবাগ টাইমসে রিপোর্ট করেছেন, কিন্তু ক্যাম্বোডিয়ার বাইরে এর সম্পর্কে খবরের অভাব তাকে পিড়িত করেছে। ক্যাম্বোডিয়ার গনহত্যা ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করছে এটা জানার পর তিনি নম পেন এ ফিরে এসেছেন সম্মানিত ফুলব্রাইট গ্রান্ট নিয়ে নম পেন পোস্টে ব্লগ করার জন্য।

তিনি গ্লোবাল ভয়েসের লেখক জেফ্রি কেইন এর সাথে কথা বলেছেন তার ব্লগ, ট্রাইবুনাল আর তিনি যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন তা নিয়ে।

একজন সাংবাদিক-ব্লগার হিসাবে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে, অপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে খেমার রুজ ট্রাইবুনাল কি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে?

অবশ্যই সবাই যে বিষয়টা তোলে সেটা তো আছেই – বয়স। যেহেতু বেশীরভাগ বিবাদী ৭০ আর ৮০ বছর বয়সের মধ্যে আর স্বাস্থ্য খুব ভালো না, তাই বেশ চিন্তা আছে যে এদের অনেকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই মারা যাবে। বেশীরভাগ ক্যাম্বোডিয়ান যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারা মনে হয় এই ব্যাপারটায় চিন্তিত। সেপ্টেম্বরের প্রথমে নির্যাতনকারীদের প্রধান ‘কমরেড ডাচ’ এর বিচার শুরু হতে পারে, কিন্তু বাকিদের ব্যাপারে কোন ধরনের ভবিষ্যৎবানী এই পর্যায়ে এখনো অনিশ্চিত।

এই অনিশ্চয়তার কিছুটা তৈরি হয়েছে বাকি চার বিবাদীর কেসের জটিলতার কারনে। আমি অবশ্যই কেসগুলোর বিশদ বিবরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞ নই, কিন্তু ডাচের কেস অনেকটা স্পষ্ট, কারন সে আদালতের সাথে এক পর্যায় পর্যন্ত সহায়তা করেছে।

‘অপরাধীদের বিচার করার’ ক্ষেত্রে আর একটি বিষয় কাজ করছে, আর তা হলো বিচারকদের সুযোগ। যখন জাতিসংঘ আর ক্যাম্বোডিয়ার সরকার এই ট্রাইবুনাল তৈরি নিয়ে আলোচনা করছিল, প্রধানমন্ত্রী হুন সেন (যিনি নিজেই খেমার রুজের সদস্য ছিলেন) জোর দেন যে শুধু কয়েকজন প্রবীন নেতাদের বিচার করা হবে। প্রধান মন্ত্রীর সমালোচকরা দাবী করেন যে তিনি ইচ্ছা করে বিবাদীদের সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন যাতে ভুতপূর্ব খেমার রুজ যারা এখন সরকারে কোন পদে বহাল আছেন তাদের বিচার না হয়।

যখন আপনি পর্যালোচনা করেন যে কত লোক খেমার রুজদের নীতি গঠন আর প্রয়োগে যুক্ত ছিল, ৫ জন বিবাদী খুব কম সংখ্যা মনে হবে।

ট্রাইবুনাল কি এই চ্যালেঞ্জ ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে, নাকি সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের আশা এই নিষ্ঠুর ঘটনার ২৮ বছর পর শেষ হয়ে গিয়েছে?

সম্পূন ন্যায় বিচার বলতে আপনি কি বোঝাতে চান? বা শুধুমাত্র ‘বিচার’ বলতে? আমার মনে হয়না ট্রাইবুনাল একটা বৃথা চেষ্টা, কিন্তু আমি মনে করি যে এটা কিছুটা প্রতীকী আর পৃথক।

এটা যেমন আপনি যদি সেই ভাবেই দেখেন, আক্ষরিক অর্থে এই ট্রাইবুনাল খুব ছোট একদল লোকের জন্য দন্ডবিধায়ক একটা প্রক্রিয়া। তবে, বেশ কিছু সংস্থা আছে যারা এই আইনি প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করছে (গণহত্যা নিয়ে) আলোচনা আর শিক্ষার শুরুর একটা জায়গা হিসাবে, যা ক্যাম্বোডিয়াতে খুবই দরকার।

ট্রাইবুনালের সমর্থকরা তর্ক করেন যে এটা ক্যাম্বোডিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় একটা নতুন মাত্রা যোগ করবে আর দেশের ‘দন্ড হতে অব্যহতির সংস্কৃতি’ শেষ করতে সাহায্য করবে। দুটোই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য আর আমি যদিও আশা করি যে ট্রাইবুনাল ক্যাম্বোডিয়াকে একটা ন্যায় আর জবাবদিহীমূলক সমাজের দিকে এগিয়ে নেবে, বর্তমানে এটি বলা অসম্ভব যে এই সব ক্ষেত্রে কি ধরনের প্রভাব পড়বে।

যার জন্য আমি বিশ্বাস করি যে ট্রাইবুনালের সাথে জড়িত শিক্ষা আর প্রচারের ব্যাপারটার প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্যাম্বোডিয়ান খেমার রুজের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা এখনো মানতে পারে নি। একই সাথে ৬০% জনগণ ক্যাম্বোডিয়ান পল পট সময়ের পরে জন্মিয়েছে আর ওই সময় সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সীমিত। নবীণ প্রজন্ম না বুঝতে পারলেও ওই সময়ের সর্বনাশা সামাজিক পরীক্ষার দান দেশে এখনো খুবই জীবিত।

আদালত, আরো কিছু সংস্থার সাথে (গণহত্যা নিয়ে) প্রচারের চেষ্টা সমন্বয় করছে, কিন্তু এটা বিশাল কাজ। এতে প্রবেশাধিকার, বাস্তবিক আর তাত্তিকভাবে সমস্যা সংকুল। আদালতের অবস্থান নিজেই একটা সমস্যা। নম পেনের কেন্দ্র থেকে অন্তত ৪০ মিনিট দূরে এই আইনী কমপ্লেক্সের দূরবতী অবস্থান হওয়ায় যারা এই বিচারকার্যে অনায়াসে যোগদান করত তাদের জন্য একটা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। আদালতের কাজ, ধারনা আর তর্কের বিষয় এই পর্যায়ে খুবই পৃথক, ‘তদন্তের’ ব্যাপারে খুব কম তথ্য জনসাধারনকে জানানো হয়। একটি বড় কৃষিপ্রধান জনগনকে এর সাথে যুক্ত করতে গিয়ে, যাদের অনেকে শুধু বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে, এই সময়ে যদি খুব কম বলা হয় তাহলে বলতে হয় যে তা কঠিন। যার জন্য আমার মনে হয় আরো রিসোর্স এখানে নিযুক্ত করা উচিত।

ক্যাম্বোডিয়ার জন্য এই ট্রাইবুনাল যা করতে পারে সেসবের সাথে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটা উদাহরণ স্থাপন করা। যেমন একজন খেমার রুজ থেকে বেঁচে যাওয়া লোক আমাকে বলেছে: “একনায়কদের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এইসব লোকের বিচার করা। আপনি মানূষের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করে পার পেয়ে যেতে পারেন না- ৩০ বছর পরও।”

আপনি কি করে সাংবাদিকতা আর ব্লগিং এর মধ্যে সুচারুরূপে যাতায়াত করেন? আপনি কি ট্রাইবুনাল সম্পর্কে ব্লগে আলাদা ভাবে লেখেন যেমন আপনি একটা ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রে লিখবেন?

ব্লগে লেখা অবশ্যই সংবাদপত্রে লেখার থেকে আলাদা। লেখার ধরন অনেক বেশি সাময়িক আর প্রত্যেকটা লেখার ঐতিহ্য অনুযায়ী ‘নিউজ হুক’ থাকতে হয়না যেমন একটা সংবাদপত্রের আর্টিকেলে থাকে। তাই এখানে নমণীয়তা অনেক বেশী আর সাধারণ খবরের আপডেট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচার সংক্রান্ত কোন কিছু যা আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় তাই নিয়ে আমি লিখতে পারি।

অবশ্য ব্লগে আমি আমার নিজের কিছু চিন্তা আর মতামত জানাতে পারি। কিন্তু সত্যি বলতে আমি তা খুব কম করার চেষ্টা করি। আমার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ট্রাইবুনালের অগ্রগতি আর আদালত ঘিরে যা ঘটছে তা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া – তাদের সবার উপর চাপ সৃষ্টি করা না।

কেউ কেউ বলে যে পেশাদার সাংবাদিক আর ব্লগার আলাদা ভুবনে থাকে। আপনার কি মনে হয় যে সাংবাদিকরা ব্লগকে আরো জোরালোভাবে ব্যবহার করতে চাইবে রিপোর্টিং এর জন্য? ব্লগিং কি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করতে পারে?

অবশ্যই। এটা বোকার মতো কথা যে পেশাদার সাংবাদিক আর ব্লগাররা আলাদা ভুবনে কাজ করে কারন আসলেই একজন ব্লগার আপনি যা চান তাই হতে পারে। এটা শুধুমাত্র বিন্যাসের ব্যাপার। অনেকে মনে করেন যে ব্লগিং স্বভাবত: গতানুগতিক সাংবাদিকতা থেকে পৃথক আর ব্লগ ব্যক্তিগত চিন্তা আর প্রলাপের সমতুল্য।

এই কারনেও এটাকে ব্যবহার করা যায় আর তা পুরোপুরি আইনসিদ্ধ। কিন্তু শুধুমাত্র সংবাদ জানানোর জন্য বা কোন লেখার ছাপার সংস্করনে যা বেরিয়েছে তার সাথে কিছু যুক্ত করার জন্যও ব্লগিং ব্যবহার করা যায়।

আপনার কি মনে হয় যে ইন্টারএক্টিভ সাংবাদিকতার ‘নতুন চেহারা’ হিসাবে ব্লগিং এর সম্ভাবনা আছে আমাদের ওয়েব ২.০, ইন্টারএক্টিভিটি আর সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়াবসাইটের যুগে?

আমি অবশ্যই মনে করি যে খবর আর ধারনা দেয়ার জন্য ব্লগ একটা সুবিধাজনক বিন্যাস। কিন্তু এটা মূল্যবান অনলাইন ইন্টারএক্টিভিটি আর বিশ্লেষনের কাজে আসবে কি না আমি ঠিক জানি না। আমাদের অপেক্ষা করে দেখতে হবে যে কি পরিমাণ গঠনমূলক আলোচনা এখানে হতে পারে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .