বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পরিবেশ সংক্রান্ত কাজে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি

মোবাইল ফোনসারা বিশ্বের পরিবেশবাদীদের জন্য মোবাইল ফোন একটি দরকারী হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা তাদের বিভিন্ন কাজ যেমন ভোক্তাদের শিক্ষিত করা, ক্রয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা, জীব বৈচিত্র আর দুষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা, আর বন রক্ষার প্রচারণা চালানো ইত্যাদিতে এই নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে।

জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন আর ভোডাফোন গ্রুপ ফাউন্ডেশন এর প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংস্থা গত এপ্রিলে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যেখানে দুনিয়ায় সামাজিক পরিবর্তনে মোবাইল ফোনের বিবিধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টটির নাম: “সামাজিক পরিবর্তনের জন্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তি: এনজিওর মোবাইল ব্যবহারের ধারা” (পিডিএফ ফরম্যাটে)

এই রিপোর্টের লেখকদ্বয় শীলা কিঙ্কাডে (শেয়ারআইডিয়া.অর্গ) আর ক্যাট্রিন ভেরক্লাস (মোবাইলএক্টিভ.অর্গ) দ্বারা উল্লেখিত পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্যোগ এর তালিকা দেয়া হয়েছে। এর সাথে আরো কিছু নতুন প্রকল্পের নামের তালিকাও আমি যোগ করেছি।

আর্জেন্টিনাআর্জেন্টিনা:

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্জেন্টিনায় গ্রীন পিস তাদের সমর্থকদের আন্দোলনে প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছে যার ফলে তারা আর্জেন্টিনার প্রথম বন সংরক্ষণ আইন পাস করাতে সমর্থ হয়েছে। মোবাইলএক্টিভ ব্লগ এ মাসের শুরুর দিকে তাদের বন সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে লিখেছিল:

গ্রিনপিস আর্জেন্টিনার জন্য মোবাইল ফোন নতুন কিছু না। এই সংস্থা বহুবার তাদের সাড়ে তিন লাখ সমর্থকের মোবাইল নম্বরের তালিকা ব্যবহার করেছে এদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ সংক্রান্ত আইনের ব্যাপারে লবী করতে। গ্রিন পিসের একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি হল সাম্প্রতিক বন সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন।

‘সামাজিক পরিবর্তনের জন্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তি’ রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রিনপিস এটা করতে পেরেছে যারা বন আইন সংক্রান্ত পিটিশন সই করেছে তাদের ইমেল ঠিকানা আর মোবাইল ফোন নম্বর সহ একটা বিরাট ডাটাবেস তৈরি করে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ হিয়ারিং আর সিটি কাউন্সিল ভোটের সময় তারা টেক্সট ম্যাসেজ করে মনে করিয়ে দেয় সমর্থকদের। তারা টেক্সট ম্যাসেজ ব্যবহার বিক্ষোভ আর মিটিং এর ও আয়োজন করে।

Ghanaঘানা:

ঘানায় একটি প্রকল্পে দেখানো হয়েছে যে মোবাইল ফোনকে সহজ যোগাযোগের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বদলে পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘সুপার সেন্সিং’ যন্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। মোবাইলের সাথে একটা বিশেষ সেন্সর যুক্ত করে এটা করা যায়। এই সেন্সর বাতাসের অবস্থা বা শহরের ট্রাফিক চিত্র সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য জোগাড় করে, যা পরে বিশ্লেষণ করা যায় আর গুগুল ম্যাপে উপস্থাপন ও করা যায়।

এপ্রিলে মোবাইলএক্টিভ ব্লগে কোরিনে রামে এই উদ্যোগের কথা লিখেছেন:

আক্রা স্টাডিতে ৭জন ট্যাক্সি চালককে ড্যাশবোর্ডে লাগানো যায় এমন জি পি এস সিস্টেম আর যাত্রীর জানালা থেকে ঝোলানো একটা টিউব দেয়া হয়েছিল। টিউবগুলোতে কার্বন মনোক্সাইড সেন্সর ছিল। একই ভাবে তিনজন ছাত্রকে মোবাইল সেন্সর প্যাক জিপিএস সহ দেয়া হয়েছিল যাতে ছিল একটি করে কার্বন মনোক্সাইড সেন্সর। ট্যাক্সি চালক আর ছাত্রদের বলা হয়েছিল তাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজের সময় যত দূর সম্ভব এই সেন্সর সাথে বহন করতে। সারাদিন এই ব্যবস্থা নিজে থেকে সেন্সরের ডাটা রেকর্ড করেছে। দিন শেষে মূল অংশগ্রহণ কারীরা তাদের সেন্সর প্যাক একটা কেন্দ্রীয় জায়গায় রেখে যেত যেখানে ডাটা বের করে সেন্সরগুলোকে রিচার্জ করা হত। এই অংশগ্রহণ মূলক ডাটা সংগ্রহ থেকে আক্রা, ঘানার একটা হিট ম্যাপ (কার্বন মনোক্সাইডের) গুগুল আর্থে প্রয়োগ করা হয়। রঙের মাধ্যমে বোঝা যায় শহরের ২৪ ঘন্টার কার্বন মনোক্সাইডের পাঠ। লাল বৃত্ত দিয়ে বোঝানো হয়েছে কোন জায়গার পাঠ নেয়া হয়েছে।

Kenyaকেনিয়া:

দ্য ওয়্যারলেস টেকনোলজি ফর সোশাল চেঞ্জ রিপোর্ট কেনিয়ার লাইকিপিয়া উপজেলার ভূমি মালিক আর বন্য পশুদের মধ্যে লড়াইয়ের ব্যাপারটি তুলে ধরছে। বন্য পশুরা কিছু কৃষককে মেরে ফেলেছে আর তাদের ফসল ধ্বংস করেছে। ওদিকে হাতি আর অন্যান্য পশু হত্যা করা হয়েছে। মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বিরোধ নিরসন প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে যার ফলে স্থানীয় গোত্র, বন্য পশু নিয়ে যারা কাজ করে তারা আর ভূমি মালিকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

পাইলট প্রযুক্তির ‘পুশ টু টক অন সেলুলার (ফোন)(পিওসি) যা ওয়াকি টকি বা দ্বিমুখী রেডিও আর মোবাইল ফোনের প্রযুক্তির সম্মিলন। পিওসি দুইজনের মধ্যে বা এক দলের মধ্যে যোগাযোগ সম্ভব করে আর একদল নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী দলকে পরষ্পরের সাথে যুক্ত করায় বিশেষভাবে কার্যকর।

দক্ষিণ আফ্রিকা:

ফিশএমএস হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাস্টেইনেবল সি ফুড ইনিশিয়েটিভ এর একটি এসএমএস নির্ভর সার্ভিস যা বিশ্ব ব্যাপী মাছের স্টকের হিসাব সবাইকে জানাতে পারে। ব্যবহারকারীরা যে মাছ তারা কিনতে চায় তার নাম একটি নির্দিষ্ট নম্বরে টেক্সট করে এবং সাথে সাথে জানতে পারে যে এই মাছ পরিবেশবান্ধব ভাবে চাষ করা হয়েছে কিনা, নাকি এটা কেনার আগে চিন্তা করা উচিত। নীচের ভিডিও এই প্রযুক্তির কাজ দেখানো হচ্ছে (এটা নোকিয়া এন৯৩ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধারন করা হয়েছে)।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র:

Ukএয়ারটেক্সট একটা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের কোন বরোর (এলাকার) দূষণের মাত্রা সম্পর্কে তথ্য জানানোর জন্যে ভোক্তাদের এসএমএস ম্যাসেজ, ভয়েসমেইল বা ইমেইল পাঠানো হয়। এই সেবা বিশেষ করে হার্টের অসুখ আর শ্বাস কষ্ট ভোগ করছে এমন লোকদের লক্ষ্য করে দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় একই ধরনের সেবা দেয়া হয় যার মধ্যে আছে এরগো (বিভিন্ন জিপ কোডে বিস্তৃত) আর অ্যাডেক (শুধু এরিজোনায়)।

uk1যারা জানতে চায় যে তাদের ব্যক্তিগত গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমান কত, তাদের ফোনে মোবগ্যাস নামে একটা প্রযুক্তি ডাউনলোড করতে পারেন, যা তাদের দৈনন্দিন কাজ যেমন রান্না, টেলিভিশন দেখা বা গাড়ি চালানো ইত্যাদিতে গ্রীন হাউজ নির্গমনের ব্যাপারে জানাতে সাহায্য করে ।

সামাজিক পরিবর্তনে ওয়্যারলেস প্রযুক্তির রিপোর্ট থেকে:

ব্যবহারকারীদের তাদের প্রত্যেকদিনের কাজ আর গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে মবগ্যাস আশা করে যে লোকে তাদের জীবনযাত্রার ধরন পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ হবে। এই প্রযুক্তিতে কিছু টিপস দেয়া আছে যে কিভাবে নির্গমন কমানো যায়।

frogজোস ক্যান্টনের রিড রাইট ওয়েব ব্লগে তুলে ধরা একই ধরনের আর একটা প্রকল্প হচ্ছে ফুয়েলফ্রগ। এটা একটা প্রযুক্তি যা টুইটার ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব রাখার জন্য:

ফুয়েলফ্রগ খুব সোজা আর খুবই উপকারী। প্রত্যেক বার ভরার পর ব্যবহারকারীরা শেষ বার ভরার পর কত মাইল গিয়েছে সেটা হিসাব দেয়, কত দাম দিয়েছে আর গ্যালনে তেলের পরিমাণ। সময়ের সাথে ফুয়েল ফ্রগ আপনার জালানি ব্যবহারের ধারা হিসাব করে গ্রাফ করে দেখাবে যার ফলে আপনি আপনার এলাকার তেলের দামের ধারা চিনতে পারবেন, আপনার গাড়ি জালানি কিভাবে ব্যবহার করে (টায়ারে বাতাস দেয়ার সময় হয়েছে কিনা?) , আপনি কতটা গাড়ি চালাচ্ছেন, আর আপনি কত খরচ করছেন।

গ্লোবাল ভয়েসেস পরিবেশ শাখা মোবাইলএক্টিভ আর শেয়ারআইডিয়াজ কে তাদের রিপোর্ট এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে। আমরা পরিবেশ সংক্রান্ত মোবাইল ফোনের অন্যান্য ব্যবহার সম্পর্কে পাঠকদের মতামত জানতে উৎসাহী।

আরও দেখুন গ্লোবাল ভয়েসেসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট যেখানে পরিবেশ আন্দোলনে ওয়েব ২.০ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .