বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তানঃ বেনাজির ভুট্টোর উইল

বেনাজির ভুট্টোর মৃত্যুসংবাদ মনে হয় সবাই শেষ পর্যন্ত গ্রহন করতে পেরেছে। ব্লগাররা এখন তার উইল নিয়ে চিন্তা করছে। ভুট্টো একটি ক্ষমতাশালী পরিবার থেকে এসেছেন, আর দক্ষিন এশিয়ার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট অনুযাযী এখন বেশিরভাগ আলোচনা হচ্ছে তার পরিবার আর পাকিস্তান পিপলস পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে।

বৈঠক ব্লগ বলেছে যে বেনজিরের উইল অনেকটা স্বজনপ্রীতির ধারনা দেয়:

যেখানে ভুট্টোর গোত্রে আরো যোগ্য প্রার্থী আছে, তিনি তাদের কথা ভাবেননি, ভেবেছেন নিজের ছেলে বিলাওয়াল জারদারির কথা, যার বয়স ১৯ বছর আর যে সহজে নিজের নাম পরিবর্তন করে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি রেখেছে। আজকে আবার লোভ, অবিচার আর স্বজনপ্রীতি জিতেছে; আর আপনি, আমি আর পাকিস্তান হেরেছে।

চাপাতি মিস্ত্রি ব্লগ এই ধারনা আরো কিছুদুর নিয়ে গেছেন এবং পাকিস্তানের রাজনীতিতে গোত্রযুদ্ধের অস্তিত্বের কথা বলেছেন – যেখানে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক পরিবার ঠিক করে যাতে তারাই ক্ষমতায় থাকে অন্য কেউ যেন নেতা না হতে পারে।

দলের বাইরে গনতন্ত্র নেই, ভিতরে থাকার দরকার নেই। এটাকে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার ছায়া বলা যায় যা বেশ কিছু ভুয়া আন্দোলনের মাধ্যমেও পাল্টানো হয়নি। পীরের রাজনিতীতে প্রভাব ইতিহাসে দেখা যায়। লোকে দোষ দিতে পারে যে রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব, আর পিপিপি এর সদস্যদের ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তায় থাকা আর একই সাথে বলতে পারে যে মিলিটারিরা রাজনৈতিক বৈধতার সব রাস্তা বিকলাঙ্গ করে দিয়েছে যার ফলে ভবিষ্যৎ নেতা – ভুট্টো, জাতোইস, বুগটিস, শরিফদের জন্য কোন বিকল্প নেই। আপনি যেমন করে ভাবেন না কেন, সত্যি হচ্ছে যে পাকিস্তানে রাজনীতি বংশানুক্রমিক ছিল এবং থাকবে; কোন একজনের ব্যক্তিত্বকে ঘিরে – যতদিন না (সুষ্ঠু) নির্বাচনের রাজনীতি শক্তভাবে শিকড় গাড়ে।

এমন উগ্রভাবে বেনজিরের মৃত্যুর খবর খুব কম লোককেই ভাবিয়েছে। মানুষ মনে হয় তার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগ ভুলে গেছে আর এমন ধারনা হয়েছে যে অন্যান্য নেতাদের থেকে তিনি ভালো ছিলেন। ক্রো'স নেস্ট ব্লগ এই ব্যাপারে আরো বলেছেঃ

যখন কেউ মারা যায় তাকে খুব ভালো বলে জানানো হয় তাদের জীবনের সব খারাপ কাজ চেপে আর ভুলে গিয়ে। বেনজির আর তার স্বামী ৯০ এর দশকে শাসনের সময় দেশটাকে লুট করেছে, কিন্তু তার মৃত্যুর সময় দেশের ১৪ কোটিরও বেশী লোক সে সব ভুলে গিয়ে তাকে ফেরেস্তা মনে করে তার প্রশংসা শুরু করলো।

উইলের বক্তব্য অনুযায়ী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি পিপিপির অন্যান্য অভিজ্ঞ লোককে টপকিয়ে নতুন চেয়ারপার্সন নিবাচিত হয়েছেন। বিলাওয়াল ১৯ বছরের একটি ছেলে যে অক্সফোর্ডে পড়ছে। অল থিংস পাকিস্তান ব্লগ বলেছেঃ

আমি আশা করেছিলাম ( যদিও আমার মনে হয়েছিল যে তা সম্ভব না) যে দলটি তাদের নেতৃত্ব আর অভ্যন্তরীন গনতন্ত্রের প্রক্রিয়া খুলে দেবে। আর এই ভয়ও আছে যে যদি তাকে নির্বাচন করা হয় তাহলে লোকে তাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে আর সে ‘পুতুল রাজকুমারে’ পরিণত হবে। আমি আশা করি যে এমন কিছু হবেনা।

তা ছাড়া ভুট্টোর উইলের অন্যান্য দিকগুলো নিয়ে কি হবে? ভুট্টো ৮ বছর পর পাকিস্তানে ফিরেছিলেন। যে পাকিস্তানকে তিনি চিনতেন তা সম্পূর্ণ পালটিয়ে গেছে। তার মৃত্যুর ফলে রাস্তায় মারামারি, লুট আর রায়ট হয়েছে। মেট্রোব্লগিং ইসলামাবাদ এগুলো নিয়ে আর সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি নিয়ে বলেছেন:

আমরা, পাকিস্তানের লোকেরা গত ৩ দিনে ৫০ জনকে হত্যা করেছি। আমরা ১৭০টি ব্যাংক জ্বালিয়ে দিয়েছি। আর লিস্ট তো বেশ বড়। আমরা সম্পূর্ণভাবে ১৮টা রেল স্টেশন ধ্বংস করেছি। আর আমরা বলছি যে আমরা শোক পালন করছি। এভাবে কি শোক পালিত হয়? আবেগী হওয়া ভালো কিন্তু কান্ডজ্ঞান লোপ হওয়া উচিত না। জীবনের ক্ষতিপূরন তো টাকা দিয়ে হয়না, কিন্তু জাতীয় রাজস্বে আমরা টাকায় ক্ষতি করেছি, আমরা ব্যবসা আর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস করেছি।

এর রায়ট কেন আরম্ভ হয়েছিল? মানুষ কার উপর রেগে ছিল? কারা তার হত্যার জন্য আসলে দায়ী? ধামাচাপা দেয়ার জোরালো প্রমান আছে, যখন পাকিস্তানের সরকার জোর দিয়ে বলছেন যে ভুট্টো গুলিতে মারা যাননি, বরং গুলি থেকে বাঁচতে মাথা নিচু করতে গিয়ে গাড়ির ছাদে মাথা বাড়ি লেগে তিনি মারা গেছেন। পাকিস্তানি স্পেক্টেটর আলোচনা করেছেন কেন ভুট্টোর মৃত্যুর পর রায়ট ছড়িয়ে পড়েছে:

এটা অবিশাস্য যে তার গাড়ির উপরের সানরুফের লিভার থেকে তিনি মারা গেছেন। আর পিএমএল (কিউ) এর কাশমালা তারিক আর এম কিউ এম এর আলতাফ হোসেন এর শোকবানি তো যা তা। জনসম্মুখে একজন নেতাকে মেরে ফেলা হয়েছে জনগনের জন্য এটাই যথেষ্ট, কিন্তু তার হত্যার ঘটনা নিয়ে যে খবর তৈরি হয়েছে তা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত একটি জাতির জন্য তাদের কষ্ট দূর করার দুয়ার খুলে দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা কিছু খাদ্য আর টাকা সামনের কয়েকদিন চলার জন্য লুট করতে পেরেছে। তাই মানুষ এটিএম আর ব্যাংক লুটেছে আর তার পর প্রমান নষ্ট করার জন্য আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরানো শত্রুতাও জেগে উঠেছে কারন কোন আইনের শাসন নেই।

- নেহা বিশ্বনাথন

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .