বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইসরাইল : হানুক্কাহ, আলোর উৎসব আর সংস্কৃতির যুদ্ধ

হানুক্কাহ একটা জনপ্রিয় ইহুদী উৎসব যার সাথে সম্পৃক্ত আছে ইসরায়েলীদের সংস্কৃতি আর স্বত্বার ঐতিহাসিক মূল্যবোধ। হানুক্কাহ আনুমানিক ১৬৫ খৃষ্টপূর্বে গ্রীকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলীদের বেশ কিছু যুদ্ধের বিজয়কে স্মরন করে। এইসব যুদ্ধ জায়গা বা সম্পদ নিয়ে ছিলনা বরং ছিল ধর্মচর্চা আর ইহুদী বিশ্বাসকে মেনে চলার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য।

গতানুগতিকভাবে বলতে গেলে হানুক্কাহ একটি সাধারন ইহুদী ছুটির দিন কিন্তু তা ইহুদী পরিচয়ের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলী এবং উত্তর আমেরিকা উভয় স্থানেই হানুক্কাহ পালনে প্রতিরোধের উপর জোর দেয়া হয়, জাতীয় আর ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারগুলো এই ছুটির ধারনাকে সমন্বিতভাবে প্রভাবিত করে। হানুক্কাহর সামরিক আর জাতীয়তাবাদী ধারনাকে প্রাচিন রাব্বিরা খাটো করে দেখেন, অন্যরা সৃজনশীলভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম যা রোমানদের কাছে জেরুজালেমের পতনের কারন এই বিষয় থেকে দুরে সরে যেতে জাদুর তেলের গল্পটি ব্যাখ্যা করেন । (উৎস)

উপরের ছবিতে: মেনোরাহ জ্বলছে – জাদুর তেলকে এভাবে স্মরণ করা হয় যা ইহুদী প্রার্থনাস্থানে আট দিন ধরে আলো দিয়েছিল

হানুক্কাহ ইসরায়েলী বিশেষ– ধর্মীয় বা ধর্ম নিরপেক্ষ – সবাই উৎযাপন করে। সাম্প্রতিক একটি জরীপ দেখিয়েছে যে বেশিরভাগ ইসরায়েলী (৮৩%) হানুক্কাহর দিনগুলিতে রোজ মোমবাতি জ্বালায়, একটি বিষ্ময়কর সংখ্যা যখন দেশে বাহ্যিক একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ রয়েছে বলে ধারনা করা হয়। ইসরায়েলে বেশ কিছু ধর্ম নিরপেক্ষ লোক ধর্মীয় আইনের চাপ অনুভব করেন তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের উপর আর বেশিরভাগ ইসরায়েলী নিজেদের প্রথমে ইসরায়েলী আর তার পরে ইহুদী ভাবেন। (ইজরায়েলী আর ইহুদী স্বত্বা নিয়ে একটি তথ্যবহুল লেখা আছে এখানে)

হিব্রু ব্লগগুলোতে সনাতনী আর নিরপেক্ষ ইসরায়েলীদের এই ছুটির ব্যাপারে ভিন্নমতগুলো ধরা পরেছে। নিরপেক্ষরা যেখানে পরিবার, ঐতিহ্য আর হানুক্কাহ তাদের টেবিলে যেসব মজার মজার খাবার আনে তার কথা বলে, ধর্মীয়রা বর্তমানে ইসরায়েলে সংস্কৃতির লোপ পাওয়া এবং পশ্চিমের সাথে সাংস্কৃতিক যুদ্ধে পরাজয় – ইত্যাদির উপর জোর দেয়। তারা হানুক্কাহ উদযাপনের পিছনের প্রহসনের কথা বলে যা পালন করা হয় সেই যুদ্ধের কথা মনে করতে যা হাজার হাজার বছর আগে ইসরায়েলীরা গ্রীকদের বিরুদ্ধে তাদের সংস্কৃতি রক্ষার জন্য করেছিল।

রাব্বি এহুদা তার ব্লগে (হিব্রু ভাষায়) ইজরায়েলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কি করে পশ্চিমের কাছে ইজরায়েলীরা তাদের আধুনিক সংস্কৃতি হারাচ্ছে তা বর্ণনা করছেন :

গ্রীকরা ইহুদিদের মারতে চায়নি । তারা যাদেরকে পরাজিত করেছে সেইসব লোকদের মারতে চায়নি । তারা শুধু দুটো জিনিষ চেয়েছিল: পরাজিত লোকদের কাছ থেকে অর্থ আর মানুষ যেন তাদের রীতি গ্রহন করে আর পালন করে – ঘোড় দৌড়, কুস্তি, বাজনা বাজানো।

গ্রীকরা বিশ্বাস করতো যে ইহুদিরা তাদের খেলায় পুতুল হবে আর ক্রমে তাদের সংস্কৃতি গ্রহনে উদ্বুদ্ধ হবে; তারা গ্রীকে পরিনত হবে আর চাপ ছাড়াই ইহুদীবাদ ছাড়বে ।

দু:খজনক, কিন্তু গ্রীকরা ঠিক ভেবেছিল। বেশিরভাগ ইসরাইলি তাদের সংস্কৃতি গ্রহন করেছে আর সেই অনুযায়ী কাজ করেছে। কারন তোরাহ্ পড়ার থেকে অনেক ভালো কোন অনুষ্ঠান দেখা। আর এই আনন্দ উপভোগের মানসিকতার জন্য তারা পবিত্র তোরাহ্ পড়া বাদ দিচ্ছে । হাশমোনিয়ান লোকেরা ইসরায়েলীদের দেবতা মেনে চলার অধিকার নিয়ে যুদ্ধ করেছে। তারা তাৎক্ষনিক আনন্দের গুরুত্বের থেকে বেশি বুঝতে পেরেছে , যে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে ( যেমন তোরাহ্ পড়া ) ।

হানুক্কাহ সম্বন্ধে আরও জানার জন্য এই লেখাটি পড়তে পারেন

- জিলাদ লোটান

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .