বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কোরিয়াঃ কলেজে ভর্তি পরীক্ষা

গত সপ্তাহে কলেজের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রত্যেক বছর এর সাথে কয়েকটি ঘটনা ঘটে। একটি ঘটনা যা অবশ্যম্ভাবীভাবেই ঘটবে তা হলো পরীক্ষার ফলাফলের কারনে পরিক্ষার্থীর আত্মহত্যা। এই ধরনের ঘটনার পূনরাবৃত্তির জন্যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ আর বিতর্ক রয়েছে অনেক:

দেগুতে একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হয়েছিল কিন্তু সে সিউলের এক কলেজে ভর্তির জন্যে এক বছর বেশি পড়েছে। কিন্তু তার ফলাফল ভালো না হওয়ায় সে হতাশ ছিল।

এই পড়ুয়া নাক উঁচু সমাজের কারনে কয়েকদিন আগে আর একজন মারা গিয়েছে… ইউনিভাসিটিতে রেন্ক নিয়ে মানুষ যত বেশী মাথা ঘামাতে থাকে নামকরা সিউলের কলেজের পড়ার গুরুত্ব তত বাড়তে থাকে শিক্ষিত সমাজের কাছে। এর মানে হলো বাইরের কলেজগুলোকে হেয় করে দেখা হয় । যার জন্য লোকে বাইরের কলেজে পড়তে চায়না।

হিসেব আছে যে অন্য জায়গার কলেজ থেকে পাস করা ৬০% ছাত্র-ছাত্রীরা এই বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আর এক বছর একই ক্লাসে থেকে তারা চেষ্টা করে ভালো কলেজে যাওয়ার, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া বা বিদেশে যাওয়ার। যে সব ছাত্র এর মধ্যে যে কোন একটা বাদ দেয় তারা সরকারী চাকরিতে ঢোকার জন্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়।

পৃথিবীতে কত লোক আছে যারা যা পড়তে চায় তা না পড়তে পেরে মারা যায়? ভর্তি পরীক্ষা দেয়া মানে উন্নততর সামাজিক শ্রেনীতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরীক্ষা দেয়া আর তাই প্রতি বছর লোক মারা যায়… পরীক্ষার জন্য মানুষ তাদের জীবন দেয়।

২০০৬ সালে পরীক্ষার ঠিক আগে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। পরীক্ষার পরেও ছাত্র মারা গিয়েছিল। ২০০৫ সালেও এমন হয়েছিল। ছাত্রদের ব্যক্তিত্বের সাথে এই আত্মহত্যার ঘটনার কোন সম্পর্ক আছে? ২০০৬ সালে আমাদের সন্তানদের বাঁচানোর একটি গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে ভর্তি পরীক্ষার চাপে ৩৮.৫% ছাত্রদের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। ডিপ্রেশন আর মানসিক সমস্যার ভিতর দিয়ে যায় ৩২% ছাত্র। ৪৫.৬% ছাত্র স্কুল ছাড়ে দিতে চেয়েছে। মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে কোন ঠাসা হয়ে গেছে এমন ছাত্রের সংখ্যা ৬৪.৯%। আত্মহত্যা করতে চেয়েছে ২০.২% আর আত্মহত্যা করেছে ৫%।

একটি ছাত্র রেজাল্টের কারনে আত্মহত্যার আগে একটা চিঠি রেখে গেছে, ”আমার খারাপ লাগছে পরীক্ষা খারাপ দেয়ায়। বাবা- মা আমি দু:খিত।”

আমরা সেকেন্ডারি আর টারশিয়ারি পড়ালেখায় এতো প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে বাচ্চাদের অত্যাচার করতে পারিনা। বেশিরভাগ ছাত্র যারা ভালো জায়গায় ভর্তি হতে পারে না তারা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। এর ফলে গৃহশিক্ষক রেখে পড়ানো ও এধরনের বিভিন্ন সামাজিক অযোগ্যতা দেখা যায়।

একজন নেটিজেন এটাকে জাপানীজ ভুতের ছবি ডেথ নোটের সাথে তুলনা করেছেন:

প্রত্যেক বছর ভর্তি পরীক্ষার পর পরিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। আমি দু:খের খবরটি শুনেছিলাম তখনই যখন আমি এটি পোস্ট করেছিলাম “পরীক্ষার শেষ, খুশির শুরু? চলো আমরা বর্বর একাডেমিক ক্লিককে (নাক উচুঁ শিক্ষিত সমাজ) জয় করি।” যে ছাত্র আত্মহত্যা করলো সে তিন বছর ধরে স্বপ্ন দেখছিল ভালো কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার কিন্তু তার মনে হয়েছিল তার ফলফল ভালো হবেনা।

প্রতি বছর পরিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করে।

আমাদের শিক্ষা নীতি আর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পাল্টিয়েও সমস্যার সমাধান হয়না। মনে হয় একটি দুটি মৃত্যু নিয়ে কেউ আর চিন্তা করে না। ভর্তি পরীক্ষার বিভীষিকা, একাডেমিক ক্লিক, কলেজের অবস্থান, ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি কম বয়সীদের পুজো করতে শেখায়, কিন্তু কেউ এটা সরানোর সাহস পায়না…শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

এস কে ওয়াই (কোরিয়ার তিনটা বিখ্যাত ইউনিভাসিটি) থেকে মৃত্যু পরোয়ানা যা এই বছর আবার কাজ করবে! এই বছর তোমরা কতো মানুষ মারবে?

একজন ছাত্রী যে এই ভর্তি পরীক্ষার ভিতর দিয়ে গিয়েছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছে:

ভর্তি পরীক্ষা সত্যি সত্যি হলো। আজ আমি আমার ফলাফল দেখবো। গতকালের থেকে খুব বেশি আলাদা হবে না। আমি বুঝতে পারি যে আমার ফলাফলে আমার বাবা-মা হতাশ যেহেতু তারা আমাকে এতো সমর্থন করেছে। কিন্তু এখন আমার সামনে কঠিন সময়। আমি আমার ফলাফলে বিশ্বাস করি না আর আমার দিনের মধ্যে ১৩ বার লাফিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে। কিন্তু যখন শুনি যে মফস্বলের কোন কলেজে গিয়ে বৃত্তি নিয়ে পড়ার কথা আমার বমি করতে ইচ্ছা করে। পরীক্ষার পরের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করেছে।

মরিয়া হওয়ার সময় শেষ।

… আর আফসোস নয়। পরীক্ষার পরে যে বিভীষিকা আমি দেখেছি। আবার পরীক্ষার কাগজ পাওয়া আর শোনা “১০ মিনিট বাকি…” আমার বুক কেঁপে যাওয়ার মতো স্বপ্ন আমি আর চাইনা…

স্কুল, শিক্ষক, ছাত্র আর শিক্ষার মানে কি?

“স্কুলের ঘন্টা বাজছে, বাজছে, বাজছে। একসাথে হই। শিক্ষকরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন…”এটি একটি পরিচিত বাচ্চাদের গান কিন্তু আমার কানে তা পরিচিত মনে হয়না। ভর্তি পরীক্ষার দু:খজনক প্রতিযোগীতা কি করে শেষ করা যায়?

প্রতিযোগীতামূলক ভতি পরীক্ষার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এই বছর শুরু হবা আর নেটিজেনরা কোরিয়ার বড় বড় শহরের শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টানোর আন্দোলনে সবাইকে অংশগ্রহনের জন্য আহবান করেছেন।

ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম বাতিল চাই। ২৪ নভেম্বর ইউনিভার্সিটি সমতা আন্দোলন পরিষদ যে সমাবেশ করবে সেখানে আরো শহর অন্তর্ভুক্ত হবে।

সবাই দয়া করে আসেন!

সম্ভব কি না তার আগে আসেন এর মুখোমুখি হই, আর তার পর কিছু পাল্টানো যাবে।

- হেইজিন কিম

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .