বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপানঃ আঙ্গুলের ছাপ, মুখচ্ছবি; জাপানে স্বাগতম

মানবাধিকার সংস্থা আর আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিবাদ সত্বেও সব অ-জাপানীদের জাপানে প্রবেশের সময় আঙ্গুলের ছাপ আর ছবি দিতে হবে আর এই নতুন ইমিগ্রেশন পদ্ধতি ২০ নভেম্বর ২০০৭ থেকে কার্যকর হবে। বিদেশীদের জাপানে আঙ্গুলের ছাপ দেয়া নতুন কিছু না। ১৯৯৯ এ “ বিশেষ স্থায়ী আভিবাসী” যেমন কোরিয়ান আর চাইনিজদের বিক্ষোভের মুখে আগে জাপানে যে আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হতো তা বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু এইবার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে এটা ফিরে এসেছে।

(চিত্র: ফ্লিকার ব্যবহারকারী এসটিবেক)

অনেক জাপানী এই নিয়মের ব্যাপারে কিছুই জানে না, বিল কবে পাস হয়েছে সেটা জানা তো অনেক দুরের কথা। ফিউচার আই জানিয়েছে যে বেশিরভাগ জাপানী না জানা সত্তেও এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে:

এইবারে যেটা সমস্যা হয়েছে তা হলো যে এটির পক্ষে-বিপক্ষে কোন আলোচনা হয়নি। বেশিরভাগ জাপানী জানেও না যে এই আইন কবে অনুমোদন পেয়েছে। আমার ধারনা সরকার বলবে যে, ”এই আঙ্গুলের ছাপ আর সনাক্তকরন ব্যবস্থা বিদেশীদের জন্য এবং জাপানীদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। তাই জুকি নেট (অভিবাসী নিবন্ধন নেটওয়ার্ক) নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়েছিল তেমন এ ক্ষেত্রে দরকার নেই” বা এই ধরনের কিছু। কিন্তু আমি আগেও বলেছি যে রেসিপ্রোসিটির (অন্য দেশের সাথে পারস্পরিক সম ব্যবহার) ব্যাপার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কাজ করে। জাপানীদের এর মূল্য দিতে হবে। কি করে এই ধরনের একটা আইন হলো আর আমরা জানলামও না?

ব্লগার ড্যানি চু লিখেছেনঃ

আমি ঠিক জানি না যে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে কারো খারাপ অভিসন্ধি কি করে বন্ধ করা যায়। যদি কেউ নিজেকে উড়িয়ে দিতে চায় তাহলে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তাদেরকে ঠিক থামানো যাবে বলে আমি মনে করি না।

আমি এটা বুঝতে পারছি যে কেউ যদি বেশিদিন থাকতে চায় তাহলে এটার মারফত তা থামানো যায়- যারা অনুমতি ছাড়া বেশিদিন থাকবে তাদের ছবি যেমন প্রকাশ করা যায়।

জাপানি ব্লগার ওহেওহেহে বলেছেনঃ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি কার্যকারী পদক্ষেপ। যাদের খারাপ উদ্দেশ্য আছে শুধু তারাই এ নিয়ে অভিযোগ করবে। যেমন, উত্তর কোরিয়া আর সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পাটির সদস্যরা আর কিছু উকিল…

এই ব্লগার তার নিজস্ব মত দিয়েছে যে বিদেশীদের আঙ্গুলের ছাপ কেন নেয়া উচিত:

এভাবেই আঙ্গুলের ছাপ পদ্ধতি বোঝাতে হবে। জাপানী নাগরিকদের মতো বিদেশীদের কোসেকি (জাপানের নাগরিক নিবন্ধন) নাই। যার জন্য বিদেশীদের আলাদাভাবে দেখা কোন পক্ষপাতিত্ব নয়।

যেহেতু বিদেশীরা কোসেকির বাইরে তাই তাদের গতিবিধির হিসাব রাখা প্রয়োজন। আর বিদেশীদের দ্বারা করা অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু ছবি মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে এটি একই লোক কিনা। আঙ্গুলের ছাপ সব থেকে ভালো পন্থা কাউকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে। যার জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া দরকারী।

অন্য দিকে কিছু ব্লগার আঙ্গুলের ছাপ নেয়াকে সমালোচনা করেছে। ব্লগার ওদোরু ওল লিখেছেনঃ

যখন আমি বিদেশে যাই তখন আঙ্গুলের ছাপ দিতে আর ছবি তুলতে ভালো লাগে না কারন নিজেকে সম্ভাব্য অপরাধী মনে হয়। আর তা ছাড়া ইমিগ্রেশান অফিসারকে বাদ দিয়ে যাদেরকে নিরাপত্তা কর্মী মনে হয় আর যারা বিদেশিদের লাইন করতে সাহায্য করে তাদের আচরন ভালো না।

তাই যদিও আমি বুঝতে পারছি যে এটা সন্ত্রাস দমনের জন্য পদক্ষেপ, যখন আমি বিরক্ত হয়ে যাই একটা লম্বা লাইনে দাড়াতে দাড়াতে, তখন যারা অভিযোগ করে তাদের সাথে আমিও একমত হইঃ কেন ভালো নাগরিকদের এর ভিতর দিয়ে যেতে হবে যখন সন্ত্রাসকে পুরোপুরি বন্ধ করা যাবেনা? ( আর যখন আপনার বোর্ডিং এর সময় কাছিয়ে আসে তখন পরীক্ষা না করে ইমিগ্রেশান যে পার হতে দেয়া হয় , এর ধরনের অনেক প্রশ্নই তোলা যায়)।


এনিমেশন বানিয়েছেন নিক উড এবং ডেবিতোতে এটি পোস্ট করা হয়েছে

টাকো তার হতাশা ব্যক্ত করেছেন আর জাপানী সরকারের সমালোচনা করেছেন ভুল নিশানায় মনোনিবেশ করার জন্য।

নভেম্বর থেকে বিদেশী যারা জাপানে আসবে তাদের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হবে আর ছবি তোলা হবে ইমেগ্রেশন কন্ট্রোলে। আমেরিকার পর এটা দ্বিতীয় দেশ যে এমন করবে।

কিছু সময় আগে তারা জাপানে বিদেশীদের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া বন্ধ করেছিল। তখন আমি ভাবছিলাম, “জাপান একটি ভদ্র দেশ হতে যাচ্ছে,” যেহেতু তারা স্বয়ন্ক্রিয়ভাবে বিদেশীদের অপরাধী ভাবা বন্ধ করেছে। এখন আমি হতাশ।

আপনি একটা ভিডিও দেখতে পারেন যেখানে নতুন ইমিগ্রেশান পরীক্ষা পদ্ধতি বর্ণনা করা হযেছে।

তারা বলছে যে সন্ত্রাস দমনের জন্য তারা এটা করছে কিন্তু এটি অস্পষ্ট। অনেক সন্ত্রাসী কাজ সম্প্রতি নাগরিকত্ব আছে এমন লোক করেছে (বৃটেনের সন্ত্রাসী কাজ ব্রিটিশরাই করেছিল)। আর জাপানে সন্ত্রাসী কাজ বলতে সারিন গ্যাস আক্রমনের কথা বলা যায় টোকিও সাবওয়েতে যা জাপানীরা করেছিল।

বিদেশীদের সন্দেহ না করে আমার মনে হয় তারা সন্দেহজনক জাপানী সংস্থাগুলোর উপর নজর রাখতে পারে।

পুরো জিনিষটি সম্পর্কে জানতে আর ইংরেজিতে হাল নাগাদ তথ্য পেতে আঙ্গুল ছাপের এন জে আরকাইভ দেখেন ডেবিটো ডট অর্গ এ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .