বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরানি ব্লগাররা তেলাপোকার কার্টুন নিয়ে সরব

প্রায় এক সপ্তাহ আগে দ্য কলম্বাস ডিস্প্যাচ নামক শিকাগোর একটি খবরের কাগজ একটি কার্টুন প্রকাশ করেছে। এতে ইরানকে একটি নর্দমার সাথে তুলনা করা হয়েছে যার ভেতর থেকে তেলাপোকা বেরিয়ে আসছে। এই কার্টুন নিয়ে ইরানি ব্লগাররা বিশেষ করে ঊত্তর আমেরিকাতে প্রবাসীরা বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

তেলাপোকা হিসাবে ইরানিরা

ইরানিয়ান ট্রুথ ব্লগ বলছে যে এটি উড়িয়ে দেবার মত ব্যাপার নয়ঃ

“ আসলে এই ধরনের খাটো করে দেখার মনোভাব দেখা যায় যে কোন গনহত্যা, যুদ্ধ আর ধ্বংসলীলায় যেমন দেখা গেছে ক্যাম্বোডিয়ার গনহত্যায়, ইউগোস্লাভ যুদ্ধে সাব আর বসনিয়ানদের হত্যাযজ্ঞে, আমেরিকার গনহত্যা আর হলোকাস্টে।”

এই ব্লগের লেখক ডিস্পাচ এর সম্পাদকদের নিকট একটি প্রতিবাদ পত্রও পাঠিয়েছেন।

ইরানে বর্ণবাদী কাটুন

কামাঙ্গির একই ধরনের প্রতিবাদ করছেন না। তিনি বলছেন,”দ্য কলম্বাস ডিস্প্যাচ এর কার্টুনের বিষয়টির পর আমি ইরানের রাষ্ট্রচালিত খবরের কাগজ কাইহান, যার প্রধান সুপ্রীম লিডার দ্বারা নির্বাচিত হন, সেখানে যে সব কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে তা দেখলাম। ফলাফল? নিজেই দেখুন।”

এই ব্লগার বলেছেন:

“ ইরানি ব্লগের কিছু লোক অপমানিত হযেছেন যে দ্য কলম্বাস ডিস্প্যাচে এমন এক কার্টুন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে ইরানকে একটা নর্দমার সাথে তুলনা করা হয়েছে যেখান থেকে তেলাপোকা বেরিয়ে আসছে। এই সংখ্যাটি জাতীয় ইরানিয়ান-আমেরিকান কাঊন্সিলের ও দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। এই কার্টুন প্রকাশের মধ্য দিয়ে তারা ইরানি-আমেরিকান গোষ্ঠিকে অপমান করেছে। আপনারা ঠান্ডা হোন।

আপনাদেরকে কেউ তেলাপোকা বলছে না। কেউ তার বাক স্বাধীনতা ব্যবহার করে বলতে চেয়েছে যে ইরান মধ্য প্রাচ্যে সমস্যা তৈরির ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করছে। কারো কাছে কি এটা ভুল মনে হচ্ছে?”

আমরা আর তারা

নিক আহাংকোসার নামক একজন জনপ্রিয় ব্লগার আর কাটুনিস্ট বলছেন,” বাক স্বাধীনতার মানে এই না যে যা খুশি তাই প্রকাশ করা যায়।” উনি বলেছেন যে আমাদের সব গোত্রের অনুভূতিগুলোকে সম্মান করা উচিৎ, আর স্বাধীনতা একটি আপেক্ষিক ব্যাপার যা স্থান, বিশ্বাস , ধারা, ঐতিহ্য আর আরো কিছুর উপর নির্ভর করে।

ইরান রাইটস লিখেছে:

দ্য কলম্বাস ডিস্প্যাচ কে যদি আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলি তাতে লাভ কি? এতে কি শেষ হবে? দুভাগ্যবশত: আমারই এর কারন। যতক্ষন আমরা নিজেদের ইরানি বলব ততক্ষন আমরা আহমাদিনেজাদ আর খামেনি সহ সব কিছুর সাথেই নিজেদেরকে চিহ্নিত করব। আপনারা কি রোজ আহমাদিনেজাদ বক্তৃতা শোনেন না? আপনাদের কি রাগ আর বিরক্তি হয়না? আপনাদের কি মনে হয় যে সে আমাদেরকে ওই কার্টুনের থেকে বেশি ভালোভাবে তুলে ধরে? আমার মনে হয়না আমরা কেউ এটা মানতে চাই যে সে আমাদের মতো একজন ইরানি। কিন্তু সে তাই আর সারা পৃথিবী তাকে সেই ভাবে দেখে, আমরা যতই তার থেকে আলাদা হতে চাই না কেন। অবশ্যি এই আমেরিকানরা আমাদেরকে আলাদাভাবে দেখবেনা, আর তার প্রয়োজন নেই। যদি সম্মিলিতভাবে আমাদের সম্মান প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সব ইরানিদের সম্মিলিতভাবে সম্মানিত হওয়া উচিত আর সেই ভাবে ব্যবহার করা উচিত।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .