বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লেবাননঃ সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

লেবানিজ সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রেসিডেন্টের সময় শেষ হওয়ার অন্তত এক মাস আগে সংসদকে একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই বছরের নভেম্বরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমিলি লাহুদের মেয়াদ শেষ হবে। তাই এটি স্বাভাবিক যে লেবানীজ ব্লগে এই নির্বাচন নিয়েই বেশি আলোচনা হবে।

গত সপ্তাহে সংবাদ মাধ্যমে ইশারা দেয়া হয়েছিল যে লেবানীজ সসশ্ত্র বাহিনীর জেনারেল মাইকেল সুলেইমান প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু তার জন্য সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে কারন জেনারেল সুলেইমান ক্যাটাগরি ওয়ান সরকারি চাকরীতে এখনো আছেন। সংবিধান অনুযায়ী এই ধরনের চাকরীতে থাকা সরকারি কর্মচারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দাড়াতে পারবেন না। যোগ্য হওয়ার জন্য তাদেরকে ইস্তফা দিতে হবে বা অবসরে যেতে হবে আর চাকরির সাথে অন্তত্: ২ বছর কোন যোগাযোগ থাকবে না।

নিচের আলোচিত ব্লগগুলোতে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী, বিদেশী মধ্যস্ততা, প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার আর অন্যান্য বিষয়য নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

লেবাননের সংবিধান প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর সংবিধান সংস্কার নিয়ে কি বলে? ব্ল্যাকস্মিথ অফ লেবানন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের ধারা উল্লেখ করেছেন

বেইরুত টু বেল্টওয়ে সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংবিধানের ধারা উল্লেখ করেছেন আর বলেছেন:

সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংবিধানে এই ধারা আছে! সংক্ষেপে, কেবিনেটে খসড়া আইন জমা না দিয়ে এটা করা যাবেনা। এটা আলোচনা বা ভোটে দেয়া যাবে না “যদি না আইন অনুযায়ী গঠিত চেম্বারের দুই-তৃতীয়াংশ উপস্থিত থাকে”।

লেবাননেস্কুর ভাষ্য অনুযায়ী নির্বাচন ছাড়া পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে গেছে আর তার জন্য ম্যারোনাইট প্যাট্রিয়াক দায়ীঃ

ক্ষমতাধররা ঠিক করেছে যে জেনারেল মাইকেল সুলেইমান লেবাননের পরবর্তী প্রেসেডেন্ট হবেন। মনে হচ্ছে ম্যারোনাইট প্যাট্রিয়াক আর একটা বড় ভুল করেছে কিন্তু কে আর হিসাব রাখে। বেশি ভাগ লেবানীজ অভিযোগ করবে আর কিছু বলবে যে এই বার আলাদা (লাহুদ এবং আউন ছাড়া)।

টিয়ার্স অফ লেবানন জানিয়েছেন যে বেশিরভাগ লোকের কথা শুনে মনে হচ্ছে যে জেনারেল সুলাইমান প্রেসিডেন্ট হবেনঃ

চারিদিকে সবাই বলছে যে জেনারেল সুলাইমান পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এটা মজার যে সবাই যখন অন্য দিকে দেখছিল তখন ইনি কখন যেন সামনে চলে এসেছেন। যা শুনেছি তাতে মনে হচ্ছে যে উনি শক্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে আছেন আর কোন কিছু উল্টো পাল্টা হতে দেবেন না।

একটি বিতর্কিত বিষয় হল যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সংসদের নির্ধারিত কোরামের প্রসঙ। বিতর্ক হচ্ছে যে দুই- তৃতীয়াংশতেই চলবে নাকি ৫১ শতাংশের ভোটেই হবে। এর উপর স্ট্রিটস অফ বেইরুট বলেছেনঃ

লেবাননের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কোরামের খবর নিতে আমাদের কি সংবিধান পড়তে হবে? উত্তর হল : না। আমাদের দরকার লেবাননকে কঠিনতম পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা ঠিক করা আর তার পরই আমরা উত্তর পাব। দেশ যে কটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে প্রত্যেকটিই কঠিন আর দেশের বিভিন্ন বিভাগগুলোর মধ্যকার মতামতের বিভেদের ফলে সৃষ্ট।

ববস ব্লগে তিনি জেনারেলের প্রার্থীতার বিরোধিতার কারন দেখিয়েছেনঃ

ব্যক্তিগতভাবে আমি তার প্রার্থীতার বিরোধীতা করি। আমার মনে হয় প্রত্যেক দশকে একজন জেনারেল যথেষ্ট। আর জেনারেল লাহুদের অভিঞ্জাতের পর আমি অন্তত ২-৩ দশক আর কোন জেনারেলকে চাইব না লেবাননের প্রেসিডেন্ট হিসাবে।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে মাইকেল সুলেইমানের সম্ভাবনা কেমন?

এক দিকে লেবানন আপডেইট তার সম্ভাবনা কমে যেতে দেখছেনঃ

লেবাননে কত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে: গত সপ্তাহে মনে হচ্ছিল যে আর্মী কমান্ডার মিচেল সুলাইমান প্রেসিডেন্ট হবেন। গতকাল থেকে তার প্রার্থীতার এতো বিরোধীতা হচ্ছে যে তার সম্ভাবনা ক্রমে কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে বেইরুত স্প্রিং মনে করে যে বিশেষ করে আমেরিকার সমর্থনের পর তার সম্ভাবনা বেড়ে গেছেঃ

জিনা এবারক্রম্বি -উইন্সটলে, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের লেভান্ত অ্যাফেয়ার্স এর পরিচালক আলহায়াতকে বলেছেন যে আমেরিকা লেবাননের সংবিধান পরিবর্তনে কিছু মনে করে না যতক্ষন পর্যন্ত প্রার্থীর গুন থাকে। তিনি আরো বলেছেন যে প্রার্থীর হেজবুল্লার সাথে দৃঢ় যোগাযোগ থাকা উচিত না, যা কোন যোগাযোগ না থাকার থেকে কিছু কম আর সুলাইমানকে ফিট করে।

শেষে , আর একটু অন্য সুরে, দ্যা ইনার সার্কেল জানিয়েছে যে সমস্ত রাজনৈতিক সমস্যার পরও লেবাননের গ্রীষ্মের রাত এখনো ঘটনাবহুল আর তাই জিজ্ঞাসা করেঃ

লেবানীজরা কি রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত?

কিন্তু শহরের আলোচ্য বিষয় এটি এবং যদিও রাজনিতিবীদরা মনে করেন যে জনগন তাদের নেতাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাহায্য করছেনা, এখনের থেকে ভালো আর সময় নেই কারন কোন কারনে মানুষকে বিরোধিতা করতে বা সংঘর্ষে যেতে দেখা যাচ্ছে না দেশপ্রেমের অজুহাতে আর এখানেই লেবানীজ সমাজ বিকোশিত হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আবার সামনের সপ্তাহে দেখা হবে। ভালো থাকবেন।

- মুসা বসির

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .