বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাইসিং ভয়সেস আউটরিচ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে

এক মাসেরও কম সময় আগে আমরা রাইজিং ভয়েসেস এর অনুদানে প্রথম পাঁচটি আউটরিচ প্রকল্পের ঘোষনা করি। কিন্তু এরই মধ্যে ওই পাঁচটি প্রকল্পের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চলুন পৃথিবীর চারদিকে একবার দ্রুত ভ্রমন করে আমরা দেখে আসি যে একটু পরিশ্রম আর অনেকগুলো হাত একসাথে মেলানোর ফলে কি করা যায়।

হাইপার বাররিও, কলম্বিয়া

প্রথম গন্তব্য , কলম্বিয়া। আল্ভারো রামিরেজ, জর্জ মন্টইয়া আর জুলিয়ানা রিঙ্কন প্রথমে দুটি আলাদা প্রকল্পপত্র জমা দিয়েছিলেন কিন্তু জোর দিয়েছিলেন মেডেলিন এর খেটে খাওয়া শ্রেনীর উপর। দুজনের মোটামুটি একই উদ্দেশ্য ছিল। তারা এখন একসাথে কাজ করছে হাইপার বাররিও নামক এক সংস্থা তৈরি করে যার মূলমন্ত্র হচ্ছে “স্থানীয় কথপোকথন, বিশ্ব শ্রোতা” । তারা ইতিমধ্যে একটি ডোমেইন রেজিস্টার করেছেন আর তাদের ওয়েবসাইটটি নির্মিত হচ্ছে

রাইসিং ভয়সেস আউটরিচ অনুদান ঘোষিত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আল্ভারো রামিরেজ আর মরিসিও মুনেরা সমস্যাসংকুল লা লোমা সান জাভিয়ের একটা পাবলিক লাইব্রেরিতে ভিডিও ব্লগিং এর উপর একটা কর্মশালা আয়োজন করেন। আল্ভারো নবীন অংশগ্রহনকারীদের তোলা কিছু ছবি দিয়ে প্রথম তিন সপ্তাহের কর্মশালা নথিবদ্ধ করেন। তাদের প্রথম ভিডিও ব্লগিং এর অভিজ্ঞতা এখানে বর্ণনা করা হলঃ

পরে আমরা কাছের লাইবেরির কম্পিউটার ল্যাবে গেলাম এবং সেখানে তারা একেকটি কম্পিউটরের সামনে ২-৩ জন করে বসে শিখতে লাগল কিভাবে ইন্টারনেট থেকে নেয়া কয়েকটি স্থিরচিত্র দিয়ে উইন্ডোজ মুভি মেকার ব্যবহার করে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও তৈরি করা যায়।

তারা অনেক উৎসাহ নিয়ে দ্রুত কাজ করেছে হুয়ান দিয়েগো, মরিসিও, ডিয়াগো আর আমার কাছ থেকে কিছু যান্ত্রিক সাহায্য নিয়ে। নান্দনিকতা আর বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের কোন সাহায্যই লাগেনি। যে সৃজনশীলতা তারা দেখিয়েছে তা মুগ্ধ করার মত আর সহজেই বুঝতে পেরেছে যে তাদের ছোট্ট প্রকল্পগুলোতে তারা কি করতে চায়।

হাইপার বাররিও

হুয়ান দিয়েগো হাইপার বাররিও প্রকল্পে অংশগ্রহনকারীদেরকে উইন্ডোজ মুভি মেকার ব্যবহার শেখাচ্ছেন

এই পর্যন্ত ছাত্রদের করা সব ভিডিও ইউ টিউবে দেখা যাবে। এখানে সেবাস্টিয়ান, জেসিকা আর সুসানার করা “সুসানার চমৎকার স্কেট” উদাহরন হিসাবে দেখান হয়েছে।

ভিডিওতে লেখা আছেঃ

: নতুন রোলার স্কেটস

: যুগোপযোগী আর আরামদায়ক

: আর সস্তা

: ব্যবহার করে দেখ

: বারবি রোলার স্কেটস

দেখাই যাচ্ছে যে মার্কেটিং এ এই তিনজনার ভবিষ্যত উজ্জ্বল। আর একটি ভিডিও গিলেরমো আল্ভারেজ আর ইভান ডারিও মেরশান তৈরি করেছে, নাম “কলম্বিয়া। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বৈপরিত্যের দেশ”।

ভিডিওতে লেখা আছেঃ

কলম্বিয়া, ছবির দেশ

কলম্বিয়ার যুদ্ধ নিয়ে অনেক কথা আছে

জীবন আর প্রাকৃতিক দৃশ্য

নাচ, আনন্দ আর চিত্তবিনোদন

… সংস্কৃতি, বিশ্বাস, আর আশা

… আমরাও

নারী জীবন, বাংলাদেশ

পরের সপ্তাহের ভূমিকামূলক পডকাস্টে হাইপার বাররিও প্রকল্প সম্পর্কে আরো জানা যাবে। কিন্তু এখন চলুন বাংলাদেশ এবং নারী জীবন প্রকল্পের দিকে। হাইপার বাররিও যখন ভিডিও ব্লগিং এর উপর কর্মশালার ব্যবস্থা করছিল মেডেলিনে, নারী জীবন তাদের প্রথম ব্লগিং কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশী প্রফেশানাল ব্লগার রাজিব আহমেদকে দিয়ে যিনি সাউথএশিয়াবিজ.কম আর ইন্ডিয়ারাজ.কম এই দুটি ব্লগের কর্নধার।

কর্মশালাটি উৎসাহব্যঞ্জক ছিল যেহেতু নারী জীবন ব্লগাররা প্রচুর লেখে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পাঁচ ভাগে লেখা এক বাংলাদেশি মেয়ের কথা যাকে যৌন কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। তসলিমা আখতার আর অনিমেষ চন্দ্র বাইন – দুই জনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ঢাকার মহিলাদের নিয়ে নারী জীবনের ক্লাসের মধ্যে ব্লগিং এর ব্যাপারটি আনতে।

বলিভিয়া, কোলকাতা আর সিয়েরা লিওন

পরের তিনটা প্রকল্পই প্ল্যানিং এর পর্যায়ে আছে, কিন্তু তাদের প্ল্যানিংও খুবই ভালো। বলিভিয়া থেকে হুগো মিরান্দা জানিয়েছেন যে এল আল্টোতে তাদের আউটরিচ কর্মশালা চালানোর জন্যে ঠিকমত একটা সাইবার কাফে পেতে তার, মারিও আর এডোয়ারডোর কি কি অসুবিধা হচ্ছেঃ

প্রায় সব ইন্টারনেট কাফেতে একি দুরবস্থা। যদি কোন সাইবার কাফে ৪০-৫০ টা কম্পিউটার সহ পাওয়া যায় তো তাদের অবস্থা খুবই করুন। আমি পেন্টিয়াম ১ এবং ২ প্রসেসর যা এক্সপি ফিনিক্স (একটি হ্যাক করা অপারেটিং সিস্টেম যা মাত্র ৩০০ মেগাহার্টজ শক্তির প্রসেসর ও ৬৪ মেগাবাইট ল্যাম সম্পন্ন কম্পিউটারে চলে) ব্যবহার করছে এমন কম্পিউটারও দেখতে পেয়েছি, যা একটি ভালো কর্মশালায় ব্যবহার করা যায় না।

কোলকাতা থেকে বিশন সমদ্দার বিশদ ভাবে জানিয়েছেন অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া নেবারহুড ডাইরিজ এর লক্ষ্য সম্পর্কে। একই ভাবে ফ্রীটাউন, সিয়েরা লিওনের ভিকি রেমো-দোহারতি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তার দাদীর খারাপ সাস্থ্য আর নির্বাচনের উন্মাদনার মধ্যে ।

যদি এখনো না শুনে থাকেন তাহলে নারী জীবন প্রকল্পের ভূমিকামূলক পডকাস্টটা একবার অবশ্যই শুনবেন। পরের সপ্তাহের শুরুতে আমরা হাইপার বাররিও, কলম্বিয়ার ভূমিকামূলক পডকাস্টের প্রথম ভাগ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .