বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কোরিয়াঃ ক্লাসরুম পরিস্কার করা- দায়িত্ব না মানবাধিকার লঙ্ঘন?

আমার মনে আছে যে আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন প্রতি বছর আমার মার পুরোনো কাপড় দিয়ে তৈরি করা পরিস্কার করার কাপড় আমাকে স্কুলে আনতে হত। আমাদের ছাত্রদের ভারি টেবিল-চেয়ার ক্লাসরুমের একদিকে সরিয়ে মাটিতে বসে পরে কাঠের মেঝে পালিশ করতে হত। প্রতি সপ্তাহে ছাত্ররা দল তৈরি করে ৫০-৬০ জনের ক্লাসরুম পরিষ্কার করত। সম্প্রতি আমি শুনলাম যে আমার বড় বোন তার সন্তানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজেই ক্লাস পরিষ্কার করতে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি সংবাদপত্রের “ক্লাসরুম পরিষ্কার করা, এটা কি শিক্ষার অংশ না মানবাধিকার লঙ্ঘন?” রিপোটের কারনে বিষয়টি কোরিয়াতে ব্যপক আলোচিত হয়েছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন যে ছাত্রদের দিয়ে ক্লাস পরিষ্কার করানো ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে বিশেষ করে যখন অভিভাবকরাও স্কুলকে চাপ দেন যাতে বাচ্চাদের দিয়ে এই কাজ করানো না হয়। অভিভাবকদের মতে স্কুলের পর টিউশন ক্লাস থাকার কারনে এটি বাচ্চাদের জন্য বেশ চাপের হয়ে যায়। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা আর কোরিয়ান শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ইউনিয়ন জোর দিয়ে বলছেন যে ছাত্রদের দিযে ক্লাস পরিষ্কার করানো মানবাধিকারের লঙ্ঘন। তারা বলেন যে ক্লাসরুম পরিস্কার করা শিক্ষারই অংশ এই কথাটি সত্য নয়, এটা আসলে স্কুলের সুবিধার জন্যই বলা। তবে সিউল মেট্রপলিটন অফিস অফ এডুকেশন জোর দিচ্ছে যে এভাবে ছাত্রদের দায়িত্ববোধ শেখা উচিৎ।

ব্লগাররা এই বিষয়ে বিভক্তঃ কেউ কেউ মনে করে যে নিজের ক্লাসরুম পরিষ্কার করা ভাল অভ্যাস, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এভাবে বাচ্চাদের কাছ থেকে জোর করে কাজ আদায় করা হয় আর শিক্ষকদের ব্যবহারের সমালোচনাও তারা করেন।

চ্যাং- গং জিজ্ঞাসা করেন যে এর সাথে মানবাধিকারের কি সম্পর্কঃ

যে কোন ব্যাপারে মানবাধিকারকে টেনে নিয়ে এসে আমরা কেন এতো হই চই করি? এটা কি স্বাভাবিক নয় যে নিজের ব্যবহার করা জিনিষ আর জায়গা নিজের পরিষ্কার করা উচিত? শিক্ষার মধ্যে নিজের জিনিষ, ক্লাসরুম, টয়লেট আর খেলার মাঠ পরিষ্কার করা পড়ে। এর মানে এই না যে মেথর হবার শিক্ষা দেয়া বরং ছাত্রদের নিজেদের কাজ করার শিক্ষা দেয়া উচিত। এভাবে তারা বুঝতে পারে যে রাস্তাতে ময়লা ফেললে অন্য কাউকে তা পরিষ্কার করতে হয়, আর তাই তারা ভবিষতে এমন আচরণ করবে না। এটা শিক্ষা। ছাত্রদের যা তারা করতে চায়না তা করতে বলা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন?

আর একজন ব্লগার শিক্ষার প্রকৃত সমস্যার কথা বলেছেন, কর্তৃত্ব:

একটা লেখা পড়লাম যে ছাত্ররা তাদের স্কুল পরিষ্কার করতে অস্বীকার করছে। জণগনের অনেক মতামত থাকে কিন্তু এত ভিন্ন মতের মধ্যেও কিছু মিল থাকে। স্কুলে থাকার সময় কে পরিষ্কার করতে চেয়েছে? বাচ্চারা অদ্ভুত হয়ে থাকে। শিক্ষার ভিত্তি ধসে গেছে। কিন্তু আমরা মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি। সমস্যাটা শুরু হয় এই বদ্ধমূল ধারনা থেকে যে পরিষ্কার করা শিক্ষার অংগ।

কিন্তু কতজন শিক্ষক মনে করেন যে ছাত্ররা স্কুলের কেন্দ্রবিন্দু আর কতজন ছাত্রও এ কথা মনে করে? আমার মনে আছে যে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ইন্সপেক্ট্রেরের আসার খবর হলে আমরা সাথে সাথে ক্লাসরুমের মেঝে মোম দিয়ে পালিশ করতাম। আমরা যখন ডেস্ক ও চেয়ারগুলোকে রুমের কোণে নিয়ে রুমের মেঝে পরিস্কার করতাম তখন কোন শিক্ষক কি আমাদের সাহায্য করতেন? আমার মনে পড়ে না। এটা চিন্তাই করা যেত না যে কোন শিক্ষক এই কাজ করবেন। কতজন ছাত্র এই কাজ করতে পছন্দ করবে? অবশ্য, আমরা, ছাত্ররা জিজ্ঞ্যেস করতে পারতাম না যে কেন শিক্ষকরা পরিষ্কার করবেন না। কারণ তারা হুকুম করলে আমাদের করতে হত। বাধা দেয়া আসম্ভব ছিল আর আমাদের খেয়াল রাখতে হত যাতে আমরা অভদ্রতা না করি। কিন্তু আমাদের অন্তত জানা উচিত যে কেন আমাদের এটা করতে হবে। কিন্তু আমাদের শিক্ষায় এটা জিজ্ঞ্যেস করা খারাপ। কিন্তু আমরা তো কুকুর -বেড়াল নই যে তাদের খেয়াল মত চলবো। আমরা চিন্তা করতে পারি যে কোন কাজ করবো আর কোনটা করবো না। কিন্তু আমাদের মৌলিক চিন্তাকে অবজ্ঞা করা হয়। কোরিয়ান শিক্ষা ব্যবস্থার এটা সব থেকে বড় সমস্যা।
আর ক্ষমতার ধারণা …
আমি শিক্ষকদের দেখেছি ছাত্রদের হুকুম করতে ময়লা তোলার জন্য কিন্তু কখনও কোন শিক্ষককে তা করতে দেখিনি। হয়তবা আমি একা নই যে এই ধরনের শিক্ষক দেখে থাকেন। ছাত্ররা শিক্ষকদের সম্মান করে তারা কতটা হুকুম করতে পারে তার জন্য নয় বরং তার কাছ থেকে কি শেখা যায় তার জন্য।

অন্য দিকে ভিন্ন মতও রয়েছেঃ

তারা এটা আসলে করতে চায়না। তারা শিক্ষককের হুকুম পছন্দ করে না। তারা মনে করে যে শিক্ষকদের ব্যবহার করা জায়গা তারা কেন পরিষ্কার করবে আর এটা নিয়েই তারা তর্ক করে। এসব ছাত্রদের দেখে আমি ব্যথিত হই। শিক্ষকদের অনেক কিছু করতে হয় – পড়ানো থেকে কি করে খেতে হবে আর পরিষ্কার করতে হবে সব। আমরা প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী উভয় ক্ষেত্রে আমাদের এথিকস ক্লাসে সব থেকে গুরুতপূর্ন যা শিখি তা হল “নিজের ব্যবহার করা জায়গা নিজেই পরিষ্কার করা”। এটা ন্যায়শাস্ত্রের ক্লাস থেকেই শেখা উচিত কিন্তু সময়ের অভাবে আমাদের তা পরিবার থেকেই শিখতে হয়।

এমন ছাত্র দেখলে কষ্ট হয় যারা এইসব কাজ করতে চায়না এবং তারা চায়না তাদেরকে হুকুম করা হোক কাই তারা মানবাধিকারের ছুতো ধরে। আমি একমত যে, যেসব শিক্ষরা নিজেরা ময়লা তোলে না তারা ভাল উদাহরণ নয়, কিন্তু সেই কারণে আমিও করবো না, এটার মানে হয়না। এটা কি ঠিক মনোভাব?

ছাত্ররা বলে যে মেথর নিয়োগ করতে আর তাদের সাথে সাথে শিক্ষকদেরও পরিষ্কার করা উচিত। আমি ভাবছি, আজকালের ছাত্ররা কি ঠিকমত বড় হচ্ছে?

আর একজন ব্লগার এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন:

আমি কিছু অদ্ভুত খবর পড়লাম। এগুলো বলছে ছাত্রদের ক্লাসরুম পরিষ্কার করা ঠিক আছে কিন্তু অন্য সাধারণ জায়গা যেমন হল আর টয়লেট ছাত্রদের দিয়ে পরিষ্কার করানো ঠিক না।

“ আমাকে কেন করতে হবে?” কিছু ছাত্র এর বিরুদ্ধে বলছেন। আর কেউ কেউ টয়লেট পরিষ্কার করতে অস্বীকার করেছে যখন শিক্ষক তা করতে বলেছে। “আমাদের কেন পরিষ্কার করতে হবে যখন আমাদেরকে আগে থেকে কোন নোটিস দেয়া হয়নি?” শেষে শিক্ষকরা পরিষ্কার করেছিলেন। ঝামেলা এড়ানোর জন্য ছাত্ররা ক্লাস পরিষ্কার করার সময় একজন শিক্ষক গিটার বাজিয়ে গান করেন তাদের উৎফুল্ল রাখার জন্যে। এসব কি হচ্ছে?

আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন শিক্ষকরা অনেক বকা দিত যার জন্য আমি তাদের অনেক ঘৃণা করতাম, কিন্তু এখনকার ব্যাপারটি অনেক বেশি অশ্রদ্ধাকর। আমাদের কি আসলেই এমন করতে হবে? স্কুল মানুষকে শিক্ষিত করার জায়গা আর সামাজিকীকরনের সব থেকে ভাল জায়গা বলেও এটি বিবেচিত। কিন্তু এটা কি? আমি জানি যে বাচ্চারা গুরুত্তপূর্ণ আর আমাদের সমাজ মানবাধিকার আর গোপনতা বজায় রেখে ঐক্যের সমাজ গড়ে তুলতে চায় , কিন্তু এই ব্যাপারটার কোন মানে হয়না। শিক্ষকরা কেমন করে এতো দুর্বল হয়ে গেলেন? আপনাদের কি মনে হয়না যে এই সমাজ বৈপরিত্যে ভরা? আমি আমার যে শিক্ষকদের পছন্দ আর অপছন্দ করতাম তাদের কথা চিন্তা করি। এই সমাজের অংশ হিসাবে আমার কেমন যেন পাগল পাগল লাগে।

এখান থেকে ছাত্র-শিক্ষক এর দ্বন্দ্বের ব্যাপারটি উঠে আসে। মারিমো নামের ব্লগার বলেন,

আমি আশা করি যে শিক্ষকরা তাদের ব্যবহারের জায়গা যেমন, শিক্ষকদের কামরা, টয়লেট, বিশ্রামাগার পরিষ্কার করবেন। খবরটি পড়ে মনে হয় যে ছাত্ররা এখনো ওইসব জায়গা পরিষ্কার করে। আমি স্কুলে থাকতে এটা পছন্দ করতামনা। কেন তারা ছাত্রদের হুকুম করে যখন নিজেরা তা করতে পারে? ছাত্ররা নিজের ক্লাসরুম পরিষ্কার করে থাকে। তাদের তো শেখাতে হয় যে নিজের ব্যবহার করা জায়গা পরিষ্কার করো। যদি শিক্ষকরা নিজেরা পরিষ্কার করেন তাহলে অবশ্যই কিছু ছাত্র অনুসরণ করবে।

-হেইজিন কিম

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .