বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফিলিপাইনসে দুধ নিয়ে যুদ্ধ: মাতৃদুগ্ধ এবং বাচ্চাদের ফর্মুলা দুধ

একটি রেডিও ইন্টারভিউতে ফিলিপাইনের প্রেস সেক্রেটারী ইগনাচিও বুনিয়ে রিপোর্ট করছেন যে দেশের সর্বোচ্চ তিন ভোগ্যপণ্য হচ্ছে ফর্মুলা দুধ, মোবাইল ফোন এবং বিয়ার। দেশে সর্বোচ্চ পরিমানে আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় বাচ্চাদের ফর্মুলা দুধ রয়েছে। যদিও এগুলো দামী এবং মাতৃদুগ্ধের থেকে অনেক নিকৃষ্ট এই পণ্যগুলোর জনপ্রিয়তার প্রধান কারন হচ্ছে দুগ্ধ কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিজ্ঞাপন। জনগন এইসব গুড়োদুধের বিজ্ঞাপন দেখে এই ধারনা প্রাপ্ত হয় যে এগুলো বাচ্চাদের বুদ্ধিমান, শক্তিশালী এবং স্বাস্থবান বানায়। তারা ভুলে যায় যে এইসব ফর্মুলা দুধ কখনই মায়ের দুধের বিকল্প নয়।

গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাতৃদৃগ্ধের বিকল্প পণ্যগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এই বিধিবিধান দুগ্ধ কোম্পানীরা সুপ্রীম কোর্টে চ্যালেন্জ করে এই যুক্তিতে যে এটি মুক্তবানিজ্যের পরিপন্থী এবং এর দ্বারা বাচ্চাদের ফর্মুলাগুলো সম্পর্কে জনগনকে জানানোর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। সুপ্রীম কোর্ট পিটিশনকারীদের পক্ষে রায় দেয় এবং একটি অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারী করা হয় যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকদের দুধের বিজ্ঞাপনের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধা নেয়। এই স্থগিতাদেশ এখনও পর্যন্ত বলবত রয়েছে।

ইনসাইড পিসিআইজে ব্লগ দুগ্ধ কোম্পানী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যকার এই বিবাদের পটভুমি তুলে ধরেছে। এই ব্লগ একজন আমেরিকান ব্যবসায়ীর চিঠিও আপলোড করেছে যাতে ফিলিপাইন সরকারের কাছে দুধের বিজ্ঞাপনের উপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আরও পড়ুন দুগ্ধ কোম্পানীর ঐ সব যুক্তিগুলো যা শুনে সুপ্রীম কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়। সেলেস্ত আ্যন ক্যাস্টিলো লানেটা ইউপি ফোরাম এর জন্যে একটি আর্টিকেল লিখেছেন যাতে দুগ্ধজাত পন্যের জন্যে বিধিমালার কি আইনগত ভিত্তি রয়েছে তার বিস্তারিত রয়েছে।

আ্যচিভিং হ্যাপিনেস বাচ্চাদের ফরমুলা দুধের বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে তার বিরোধিতা ব্যাখ্যা করছেন এবং মায়েদের কাছে আবেদন করছেন:

“এটি শুধু টাকা কামানোর জন্য। বাচ্চাদের ফর্মুলা দুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের প্রচার করে এই বলে যে তাদের ফর্মুলা বাচ্চাদের বুদ্ধি বাড়াবে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং ‘আপনার শিশু টিভিতে প্রচারিত আমাদের মডেলদের মত হয়ে যাবে।’ হ্যা, এক কিলোগ্রাম ক্যানের জন্য ৬০০ পেসো গুনুন এবং আপনার শিশুর হজমের সমস্যা শুরু হোক, অন্তত অন্ত্রের সমস্যা এবং পেটে খিচুনি। আমাকে এও বলা হয়েছিল গরুর দুধ খেলে হাড়ের সমস্যা হয়। অন্যদিকে মাতৃদুধের বিপক্ষে কোন যুক্তি নেই। একটিও নেই। সকল মাকে বলছি, আপনারা যদি পারেন মাতৃদুগ্ধ খাওয়ান। বাচ্চাদের প্রথম তিন বছর তাদের সব ধরনের পুষ্টি যোগান হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন। মায়ের দুধই পরিপুর্নভাবে তাদের তা দিতে পারে।”

নৃবিজ্ঞানী মাইকেল ট্যানও ফর্মুলা দুধের বিজ্ঞাপনের সমালোচনা করেছেন।

“এই ইন্ডাষ্ট্রির তথ্যগুলো ফর্মুলা দুধ প্রচারের জন্যে দৃষ্টিকটুভাবে তৈরি। হাসপাতালে নতুন মার হাতেই পৌছে যায় ফর্মুলা দুধের বুকলেট এছাড়া সর্বত্র ফর্মুলা দুধ ও মাতৃদুধের বিকল্প খাদ্যের সৃদৃশ্য মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। আমি বিরক্তবোধ করি এইসব পণ্য উৎপাদনকারীদের আইকিউ কথাটির অধিক ব্যবহারে। আমার কাছে একটি এরকম ক্যান রয়েছে যার প্রায় সবটুকু গা জুড়ে আইকিউ শব্দটি ছাপানো। মনোবিজ্ঞানীরা নিশ্চয়ই বলবে এটি উদ্দেশ্যমুলক, যেন বলছে আপনি যদি এটিকে পরিবর্তন করেন তবে আপনি আপনার শিশুর কাছ থেকে আইকিউ বৃদ্ধিকারী দুধ কেড়ে নেবেন।”

আইনজীবি রাউল পাঙালাঙান জানাচ্ছেন কিভাবে কিছু হসপিটাল শিশুদের ফর্মুলা দুধ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে:

“আমার স্ত্রী আমার সবকয়টি সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়েছে, এবং যতদিন না পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে আইন হয়েছে আমাদের সমস্যা হতো নার্সদের দ্বারা বাচ্চাদের রুম থেকে আমাদের সদ্যপ্রসূত বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য নিয়ে আসতে। প্রথমত হসপিটালটি দুধ খাওয়ানোর সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিত বাচ্চাদের চাহিদামত নয় নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী । তারপর ঐ নির্দিষ্ট সময়ে যখন আমার স্ত্রী নার্সদের বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্যে নিয়ে আসতে বলত তখন তারা বলত তারা বাচ্চাকে বোতলে করে দুধ খাইয়ে দিয়েছে কারন সে নাকি সময়ের আগেই ক্ষুধার্ত হয়ে গিয়েছিল। তাদের নিশ্চয়ই এটা বোঝা উচিত একবার বোতলের দুধে অভ্যস্ত হয়ে গেলে বুকের দুধ খাওয়াতে আবার অভ্যাস করানো লাগবে।“

ইতিমধ্যে ইনফোসেন বালিতা রিপোর্ট করছেন একটি প্রাদেশিক সরকার কিভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রচার করছেন:

“এই ক্যাম্পেইনটা প্রাতিষ্ঠানিক করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল প্রভিন্সিয়াল স্তরে। অন্যদিকে ছোট মিউনিসিপালিটিগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগগুলো গড়ে তুলছেন। এছাড়াও প্রভিন্সিয়াল ও মিউনিসিপাল স্বাস্থ্য অফিসে স্বাস্থ্য কর্মীরা হবু মাতাদের সব সময়ই বুকের দুধের উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়ে দেয়।“

বাচ্চাদের ফর্মুলা দুধ না খাওয়ানোর জন্যে মাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য সাহসী উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ফিলিপাইনসে একসাথে সর্বোচ্চ সংখক মাতার একসাথে বুকের দুধ পান করানোর বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে। গত মাসে একদল মাতা সুপ্রীম কোর্টের সামনে তাদের বুক উন্মোচিত করে দুধ কোম্পানির কেসের প্রতিবাদ জানায়।

৯৯% স্ত্রী এবং মা এইসব সাহসী মহিলাকে অভিবাদন জানিয়েছে:

“সত্যিই যদি আমি ঐদিন সেখানে থাকতে পারতাম। এই সাহসী গোডিভারা, গর্বের সাথে তাদের দুগ্ধ উন্মোচিত করে দেখাচ্ছে যা দ্বারা পৃথিবীকে পুষ্ট রাখা হয়েছে।”

ম্যাডনোহোয়্যারওমেন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেচছন:

“এটি একটি দু:খের বিষয় যে এইসব একক সাহসী মাতারা যারা খবরে এসেছেন তাদের নাম প্রকাশ করেননি। বিচারক এন্জেলিনা সান্ডোভাল গুটিরেজকে ধন্যবাদ তিনি যে দুগ্ধ কোম্পানিগুলোতে বার বারে জিজ্ঞেস করেছেন কেন তারা বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের চেয়ে তাদের লাভ কমে যাওয়া নিয়ে বেশি চিন্তিত যখন এটি বারবার প্রমানিত হয়েছে যে মায়ের দুধই সর্বশ্রেষ্ঠ।“

ক্লারিকাল হুইসপার জানাচ্ছেন যে ডাব্লিউ এইচ ওর একজন কর্মকর্তা একজন প্রভাবশালি ক্যাথলিক চার্চের সাহায্য চেয়েছিলেন বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রচারে সাহায্য করার জন্যে। মম এক্সচেন্জ দেশে একটি মাতৃদুগ্ধ ব্যান্ক স্থাপিত হওয়ায় খুশী হয়েছেন। পরিবেশবাদীরাও মায়ের দুধ খাওয়ানোর কথা বলেন। সনি’স পর্চ এই দুধ নিয়ে যুদ্ধ এবং কর্পোরেট সোসিয়াল রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে ব্লগ করছেন। তিয়েনে আরা জাম্বুগেনা আহত হয়েছেন এই দেখে যে কিছু মাতা কফি ক্রিমারকে মাতৃদুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন।

কিপ এব্রেস্ট একটি দুগ্ধ কোম্পানিকে বয়কট করতে চান। বেবি মিল্ক একশন একটি ওয়েবসাইট খুলেছে দুধ কোম্পানির এসব দুষ্কর্মের প্রতিবাদ করার জন্যে। বয়কট নেসলে-প্রটেক্ট ইনফ্যান্টস ইউটিউবে শিশুখাদ্যের অনৈতিক বিজ্ঞাপনের ভিডিওগুলো আপলোড করে দিচ্ছে। বেস্ট ফর বেবিজ একজন মহিলা সিনেটরের বুকের দুধ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত একটি আর্টিকেল তুলে ধরছেন।

একটি দুধ কোম্পানি সমস্যায় পরেছে যখন সে স্বীকার করেছে যে তার বাজারজাতকৃত দুধের কিছু টিনে মরচে ধরা ছিল। প্রফেশনাল হেকলার এনিয়ে তার ব্লগে লিখেছেন। লিতো ইউ গাগনী, যিনি বিজনেস মিররের জন্য লিখেন বিশ্বাস করেন যে ঐ কোম্পানীটির একটি মাইক্রোবায়োলজিকাল টেস্ট করানোর দরকার ছিল। থটস অফ এ ড্রামা কুইন সতর্ক করে দিচ্ছেন মিডিয়াকে যেন তারা এ ব্যাপারে “পক্ষপাতিত্বমুলক এবং মিথ্যা সংবাদ” না ছাপেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .