বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কোরিয়া: ২৫শে জুন

গত ২৫শে জুন ছিল কোরিয়া যুদ্ধ আরম্ভের ৫৭ বছর পুর্তি। দিনটি ছিল শান্ত। বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল অন্যান্যবারের থেকে কম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোরিয়ান ব্লগাররা কোরিয়ার যুদ্ধকে কিভাবে দেখে? নীচে তাদের কথায়ই পড়ুন এই দিন তাদের কাছে কি তাৎপর্য বহন করে:

ডলস্টোন ২০০২

মনে পড়ে, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন এই দিনটিতে আমি কমিউনিজম বিরোধী স্লোগান দিতাম, পোস্টার বানাতাম আর একটি গান গাইতাম: ‘আহ, আহ, কিভাবে আমরা এই সময়, এই দিনটি ভুলতে পারি, যে দিনটিতে আমার দেশের শত্রুরা আমাদের পদদলিত করেছিল?’

এখন আমরা জানি কেন আমাদের শিক্ষা দেয়া হতো উত্তর কোরিয়াকে নিন্দা করার জন্যে- সামরিক শাষকদের নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্যে। এখন আমরা জানি যুদ্ধ শুধু আমাদের সাথে মন্দ লোকেদের সাথ সংঘাত ছিলনা । ছিল আমাদের ক্ষতি এবং বিশ্বশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের মাঝে পড়ে শুধুই যন্ত্রনা ভোগ। তবে একটি বিষয় নিশ্চত যে আমরা আজ যে সমৃদ্ধ জীবন যাপন করছি তা সেই সময় যারা দেশজুড়ে রক্ত এবং ঘাম ঝরিয়েছিল তাদের জন্যে। আমরা তাদের অশ্রুধারা ভুলবনা যার ভিতর দিয়ে তাদের নিজেদের ভাই-বোনের দিক অস্ত্র তাক করতে হয়েছিল।

মিউজসিন

সময়ের সাথে মানুষের ভোলাও স্বাভাবিক। ক্যলেন্ডার দেখে স্মরন হয়েছে আজ ২৫শে জুন। ১৯৮০ সালের মাঝ থেকে শেষের দিকে আমি প্রাথমিক স্কুলে পড়তাম। এটি ছিল কমিউনিস্ট বিরোধী সময়। আমরা কমিউনিস্ট বিরোধী চলচিত্র দখতাম বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের গানগুলো কিংবা যে কোন শিশুতোষ সঙীতের চেয়ে আমার ওই ২৫শে জুসের গানটিই বেশী কানে বাজে:

‘আহ, আহ, কিভাবে আমরা এই সময়, এই দিনটি ভুলতে পারি,

যে দিনটিতে আমার দেশের শত্রুরা আমাদের পদদলিত করেছিল?

হাতের মুঠো এবং রক্ত দিয়ে আমরা শত্রু রোধ করেছিলাম

এইদিন আমাদের পদধ্বনিতে মাটি প্রকম্পিত হয়েছিল

রাগে আমাদের গা কাঁপছিল।

এইদিনে আমরা আমরা বদলা নেব

চিরকালের জন্যে শত্রু তাড়া করব

একটি একটি করে শত্রুনাশ করব

এভাবেই আমাদের দেশ এবং ভাই-বোনের জন্য গৌরব বয়ে আনব।’

আমার এখনো মনে পড়ে কখন আমি এই গানটি শিখেছিলাম। দ্বিতীয় শ্রেনীতে একজন শিক্ষক ব্ল্যাকবোর্ডের ডানদিকে লিখে রেখেছিলেন বেশ কয়েকদিনের জন্যে। সেইসময় উত্তর কোরিয়ার লোকজন আমাদের কাছে অপাংতেয় ছিল। দোল-ই-চাঙান এর (৮০র দশকের অন্যতম জনপ্রিয় কার্টুন: একটি বালক সব দুষ্ট উত্তর কোরিয়ান এবং কিম ইল সুঙকে মারত এবং দৈত্যের কাছ থেকে ভাল লোকদের উদ্ধার করত) মতো উত্তর কোরিয়ানদের সবারই শুকরপনা লালমুখ ছিল। সিনেমা হলে নিন্মমানের পর্দায় সৈন্যদের মৃত্যুর পাশাপাশি দেশের লোকজনের অশ্রু দেখানো হতো। এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময়ই এই গানটি থাকত। ঐ বয়সেও আমি গানটির কথা শুনে কাঁদতাম। আমি জানিনা কখন এবং কে এই গানটি রচনা করেছেন। হয়ত ‘কমিউনিজমকে পরাজিত কর’ এই সময়ে রচিত হয়েছিল। এই গানটি আমি আর গাইতে চাইনা এবং চাইনা আমার উত্তরসুরীরাও এটি গাক।

বিকেলাভ

আমি একটি ব্লগার পোস্ট পড়ার আগে এই দিনটি সম্পর্কে জানতামনা। এটি ছিল কোরিয়া যুদ্ধের ৫৭ বছর পুর্তির দিন। আমার সেই সময়ের কথা মনে পড়ছে যখন সমাজতন্ত্র বিরোধী শিক্ষার উপর জোড় দেয়া হতো। সেই সময়অনেক অনুষ্ঠানই হতো। হয়ত এখন শান্তির সময়। আগের দিনগুলির কথা তুলনা করলে এটি ছিল একটি শান্ত দিন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .