বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আরবদেশ: আরবদের পশ্চিমীদের সাথে কথা বলার আগে নিজেদের সাথে কথা বলা দরকার

জর্দান থেকে বাতির ওয়ার্দাম লিখছেন আরবদের ইউরোপীয় এবং অন্যান্য পশ্চিমীদের সাথে কথা বলার আগে নিজেদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা দরকার কেন? তিনি তার অবস্থান জানাচ্ছেন এই পোস্টে, যেখানে তিনি জানিয়েছেন কেন আরবরা নিজদের দেশের সকল ভিন্ন মত ব্যতিরকেও কেন শুধু নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে না ।

আমি গত সপ্তাহে বার্লিনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আয়োজিত ইউরোপ মেডিটেরিয়ান পাটনারশিপ প্রজেক্ট এর কমর্শালায় অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলাম । অনুষ্ঠানে জাতির মধ্যকার সংলাপে মিডিয়ার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পায় । আমি তখন বুঝতে পারি ইউরোপ- আরব এবং আরব দেশগুলোর মধ্যকার তত্তগত এবং ব্যবহারিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। ঐ কর্মশালার অনেক অংশগ্রহনকারীই বলেছেন যে সমঅবস্থান থেকে সংলাপ হতে হবে, যা বর্তমানে নেই। ইউরোপে এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু আরব বিশ্ব এখনও লাল ফিতায় মোড়া সব আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে এইসব স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়াও ইউরোপীয় মিডিয়া এবং সংস্কৃতি আরব দেশগুলোতে সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। অথচ আরবরা পশ্চিম বিশ্বে তাদের প্রচার করতে পারছে না।

ইউরোপিয়ান এয়ারপোর্টগুলোতে ভ্রমনের সময় গাজা, ইরাক ও লেবাননে ধ্বংসযজ্ঞগুলো একের পর এক টিভি স্ক্রীনে দেখানো হচ্ছিল। এই সব ক্ষেত্র আমরা দেখি আরব এবং মুসলমানরা একে অপরকে মারছে। তারা সভ্য সংলাপ বাদ দিয়ে স্নাইপার, বুলেট, ধ্বংস, মসজিদ ও গাড়ীতে বোমা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে। তারই আরবদের খ্যাতিকে ধুলিস্মাত করে। কে ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্ব নিয়ে তর্ক করতে যাবে যখন ইরাকীরা এক অন্যের মসজিদে বোমা মারছে? কে ইজরাইলি দখলদারিত্ব নিয়ে কথা বলবে যখন প্যালেস্টাইনি উপদলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধ অস্ত্র ধরছে? কে লেবাননের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলবে যখন বোমাবাজি চলতেই থাকে? প্রশ্ন করেছেন ওয়ারদাম।

“গাজা, ইরাক ও লেবাননে অস্ত্রর সহজলভ্যতা নিজদের মধ্যে গোলাগুলি ও এই রক্ত বণ্যার মুলে রয়েছে। অন্যন্য দেশে অস্ত্রর ব্যবহার রাস্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা ফতোয়া দেখি ও পড়ি যাতে ভিন্নমতের লোকজনকে বিশ্বাসঘাতক, সপক্ষত্যাগী, গুপ্তচর বা শত্রুপক্ষের বলে আখ্যা দেয়া হয় এবং তাদের মারার জন্যে ঘোষনা দেয়া হয়। অস্ত্রের ব্যবহার অবাধ বলে এসব কাজ করার জন্যে লোকের অভাব হয়না।

এই সংঘাতের মধ্যে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিধা বোধ করি এটি স্বীকার করতে যে রাস্ট্রীয় নিরাপত্তার পতনের কারনেই এইসব চরমপন্থীদের উদ্ভব হয়েছে যারা সংলাপের চেয়ে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলতেই বেশী পছন্দ করে। এই কারনে লেবাননে স্বাধীনতা ও সংঘাত এর চাইতে তিউনিশিয়ায় নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন বেশী গুরুত্বপুর্ন।” – তিনি ব্যাখ্যা করছেন।

আমরা অনেক বলি রাজণৈতিক গনতন্ত্র, স্বাধীন নির্বাচন, রাজনৈতিক দল এবং একটি স্বাধীন মিডিয়ার কথা কিন্তু গনত্নত্রর মুল বিষয় হচ্ছে সহনশীলতা এবং ভিন্নমতকে গ্রহন করার সংস্কৃতি। কিন্তু এই সংস্কৃতি অনুপস্থিত শুধু আরব সরকারগুলোতেই নয় প্রতিপক্ষের মতবাদগুলোতেও। – লিখছেন ওয়ার্দাম

পশ্চিমীদের সাথে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংলাপ সম্ভব হবে না যতক্ষন পর্যন্ত আমরা শিখতে পারি নিজেদের মধ্যে কিভাবে সংলাপ স্থাপন সম্ভব, কিভাবে সংঘাত ছাড়া ভদ্র ভাষা ব্যবহার করা যায়, এবং অপরের মতকে সম্মান করা যায়। বর্তমানে এটি অনেক আরব দেশেই সম্ভব নয় এবং এই কষ্টকর সত্যটি আস্বীকার করতে বালির নীচে মুখ না লুকিয়ে আমাদের উচিত সত্য স্বীকারের জন্য সাহস সন্চয় করা।

- আমিরা আল হোসাইনি

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .